টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পেকুয়া-পাথরঘাটা সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে চলছে যানবাহন। ফলে উপজেলার বাঁশতৈল, সখিপুর, গাজিপুরের শ্রীপুর, কাপাসিয়া, কালিয়াকৈর এলাকার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। যে কোনো সময় ব্রিজটি ভেঙে নিচে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।
উপজেলা এলজিইডি অফিস ও স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৮ সালে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের কেয়ার বাংলাদেশ ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট প্রস্থের ব্রিজটি নির্মাণ করে। ব্রিজটি দিয়ে মির্জাপুরের বাঁশতৈল ইউনিয়নের অভিরামপুর, কটামারা, ইনথখাচালা, বংশীনগর, দিঘীবাড়ি, মুথারচালা ও বালিয়াজানসহ সখিপুর উপজেলার রাজাবাড়ি, দেওয়ানপাড়া, বাজাইল ও কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া, মুনচালা ও পাগুড়াচালা গ্রামের কয়েক হাজারও মানুষ মির্জাপুর সদরসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে থাকেন।
গত দুই বছর আগে ব্রিজটিতে ফাটল দেখা দিলে উপজেলা প্রকৌশল অফিস ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজটি সরজমিন পরিদর্শন শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রতিবেদন পাঠান। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ব্রিজটির সংস্কার বা পুননির্মাণ করা হয়নি। সম্প্রতি ব্রিজের মাঝখানের স্ল্যাব ভেঙে রড বেড়িয়ে গেছে। যে কোনো যানবাহন এ ব্রিজে উঠলেই কাঁপতে থাকে।
সিএনজি চালিত অটো রিকশাচালক আবুল কালাম জানান, ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। যাত্রী নিয়ে আসলেও ব্রিজের সামনে নামিয়ে তারপর পার হতে হয়।
বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মালেক মিয়া বলেন, বাঁশতৈল হাঁট থেকে বেগুন কিনে এলাকায় ব্যবসা করতাম। এ রাস্তা ছাড়া চলাচলের আর রাস্তা না থাকাই ঝুঁকি নিয়েই যেতে হয়। আগে পিকআপে মাল আনা-নেওয়া করতাম। এখন ভ্যানে নিতে হয়। এতে তার খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে।
পেকুয়া গ্রামের আলমগীর হোসেন, খোরশেদ মিয়া, আলমাছ ও আব্দুর রউফ মিয়া জানান, বাঁশতৈল হাটে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা এটি। রাস্তাটির পেকুয়া এলাকার ব্রিজটির মাঝখানে ভেঙে পড়ায় মালবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের জমিতে উৎপাদিত বেগুন, কলাসহ মৌসুমি ফল আম, কাঁঠাল, লিচুসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে।
বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান মিল্টন জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটির পেকুয়া ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ব্রিজটি দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রফিক মিয়া জানান, ব্রিজটির বর্তমান অবস্থা সরজমিন পরিদর্শন শেষে পুনরায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। এস এম এরশাদ/আরএইচ/এমএস