দেশজুড়ে

কলাপাড়ায় প্রথমবারের মতো চলছে বড়শি দিয়ে মাছ ধরা উৎসব

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে বড়শি দিয়ে মাছ ধরা উৎসব।

উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের মাস্টার বাড়ি খালে বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা থেকে বড়শি দিয়ে মাছ ধরা প্রতিযোগিতা শুরু হয়। যা চলবে শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা পর্যন্ত। দুই দিনব্যাপী এ খালে মাছ ধরার আয়োজন করে পায়রা মৎস্য চাষ ও মৎস্য শিকারী সমবায় সমিতি।

আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগীরা খালের মিঠা পানিতে দুই দিন মাছ ধরতে ছয় হাজার টাকা দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করেছেন। প্রত্যেক প্রতিযোগী এক টিকিটে চার-পাঁচটি বড়শি নিয়ে লেকে মাছ ধরছেন। দীর্ঘ এক কিলোমিটার লেকে দুই দিনের এ প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ৭৬ শৌখিন মৎস্য শিকারিরা অংশ নিয়েছেন।

শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে দেখা যায়, মাছ ধরায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিযোগীরা। কেউ কেউ সহযোগীদের নিয়ে এসেছেন। তাদের মধ্যে কেউ বড় মাছ পেয়ে খুব খুশি, আবার কেউ আশানুরূপ মাছ না পেয়ে হতাশ। মাছ ধরা প্রতিযোগিতা দেখতে লেকপাড়ে জড়ো হয়েছেন শিশু-কিশোরসহ সব বয়সের মানুষ। উৎসমুখর পরিবেশে বড়শি দিয়ে রুই, কাতল, মৃগেল, শোল, গজারসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করতে দেখা যায় তাদের।

ঝিনাইদাহ থেকে আসা মৎস্য শিকারি রফিক হোসেন বলেন, পেশায় ব্যবসায়ী। দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন প্রতিযোগিতার কথা জানলেই অংশ নিই। ভালোই লাগে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে। শখ করে কয়েকজন বন্ধু মিলে মাছ ধরার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি।

মাগুরা থেকে আসা লাবলু মোল্লা বলেন, ‘দোকানদারি করি। বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে অনেক ভালো লাগে। তাই প্রথম এই লেকে মাছ ধরতে এসেছি। এক টিকিটে ছয়টি বড়শি, চার বন্ধু মিলে মাছ ধরছি।’

মাছ ধরা দেখতে আসা দর্শনার্থী ফরাজি মোহাম্মদ ইমরান বলেন, চার-পাঁচ বন্ধু মিলে খালের পাড়ে ঘুরতে এসে মাছ ধরতে দেখছি। ভালো লাগছে। প্রতিবছর বিশেষ বিশেষ দিনে এমন প্রতিযোগিতার আয়োজন করলে আমরা আনন্দ উপভোগ করতে পারব।

বৃহস্পতিবার উৎসবের শুরুতে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক। তিনি বলেন, কলাপাড়ায় এই প্রথম বড়শি দিয়ে মাছ ধরার উৎসব। এ খালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছাড়া হয়। আর মাছগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণসহ প্রতিযোগীদের মাঝে আনন্দ এবং দর্শনার্থীদের মাঝে ভালো লাগার বিষয়টি ফুটিয়ে তুলতেই বিগত বছর ধরে মাছ চাষ করে আসছে। বিশেষ দিনগুলোতে উৎসমুখর পরিবেশে মাছ ধরার এই প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এএইচ/জেআইএম