অর্থনীতি

ইভ্যালির চেয়ারম্যান-এমডির বিরুদ্ধে গুলশান থানায় অভিযোগ

অনলাইনে পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেলের বিরুদ্ধে ডিএমপির গুলশান থানায় অভিযোগ করেছেন আরিফ বাকের নামে এক ভুক্তভোগী।

Advertisement

বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ভুক্তভোগী সশরীরে গুলশান থানায় উপস্থিত হয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেন।

রাতে জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিযোগকারী আরিফ বাকের।

তিনি বলেন, থানায় একটি অভিযোগ জমা দিয়েছি। তবে থানা এখনও তা অফিসিয়ালি নেয়নি। থানা থেকে বলা হয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের বিষয়ে জানানো হবে। আমি এখনও থানায় রয়েছি।

Advertisement

জানতে চাইলে গুলশান থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান বলেন, ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও এমডির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ নিয়ে একজন ভুক্তভোগী রাতে আমাদের থানায় আসেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির অফিস ধানমন্ডি থানা এলাকায় হওয়ায় ভুক্তভোগী নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি মামলাটি কোথায় করবেন। যেহেতু অফিসটি ধানমন্ডিতে নিয়ম অনুযায়ী সেখানেই মামলাটি হওয়ার কথা। তবে ভুক্তভোগীর বাসা গুলশান এলাকায় হওয়ায় তিনি আমাদের কাছে এ বিষয়ে পরামর্শ করতে এসেছিলেন। তার কাছ থেকে অভিযোগের একটি কপি আমরা রেখে দিয়েছি এবং তাকে আমরা বলেছি, আগামীকাল সকালে থানায় আসতে; তখন সিনিয়র অফিসাররা থাকবেন, এ বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে একজন তিন লাখ ১০ হাজার টাকা, একজন নয় লাখ টাকা ও আরেকজন সাত লাখ ৯৮ হাজার টাকার পণ্য অর্ডার করেও নির্ধারিত সময়ে পণ্য পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চমকপ্রদ বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে অভিযোগকারী আরিফ বাকের ও তার বন্ধুরা চলতি বছরের মে ও জুন মাসে কিছু পণ্য অর্ডার করেন। পণ্যের অর্ডার বাবদ সব মূল্য বিকাশ, নগদ ও সিটি ব্যাংকের কার্ডের মাধ্যমে সম্পূর্ণ পরিশোধ করেন তারা। পণ্যগুলো ৭ থেকে ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে ডেলিভারি ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠান সমপরিমাণ টাকা ফেরত দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ওই সময়সীমার মধ্যে পণ্যগুলো ডেলিভারি না পাওয়ায় বহুবার ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধিকে ফোন করা হয়। সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর যোগাযোগ করে অর্ডার করা পণ্যগুলো পাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই।

একপর্যায়ে ইভ্যালি পণ্য প্রদান ও টাকা প্রদানে ব্যর্থ হওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির ধানমন্ডির অফিসে যাই। ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেলের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা উত্তেজিত হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। একপর্যায়ে অফিসের অভ্যন্তরে থাকা ইভ্যালির রাসেল উত্তেজিত হয়ে তার রুম থেকে বেরিয়ে এসে আমাকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন এবং আমাদের পণ্য অথবা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। আমাদের ভয়-ভীতি ও হুমকিসহ চরম দুর্ব্যবহার করে, যার ফলে আমরা চরম আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে দিনযাপন করছি এবং পণ্যগুলো বুঝে না পাওয়ায় আমি আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

Advertisement

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জসহ ১০ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত কমিটি।

এর আগে, গত ২৫ আগস্ট ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও চেয়ারম্যানের সব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হিসাব চেয়েছিল বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। চিঠিতে ইভ্যালি প্রতিষ্ঠান, চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও এমডি মোহাম্মদ রাসেলের ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছিল।

গত বছরের আগস্টে বিএফআইইউ নাসরিন ও রাসেলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয়।

টিটি/এআরএ