দেশজুড়ে

অসহায় ঝর্ণা বেগমের ঘর করে দিলো স্বেচ্ছাসেবীরা

অভাব অনটনের মধ্যে মানুষের কাছে চেয়ে চিন্তে চালাতেন সংসার। স্বামী মারা যাওয়ার পর দুই ছেলে আর এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন ভাঙাচোরা একটি ঘরে। একটু বৃষ্টি হলেই সেই ঘরে জমে থাকতো পানি। বলছি ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের গাজিরটেক ইউনিয়নের লোহারটেক-খালপাড় ডাঙ্গী গ্রামের ঝর্না বেগমের কথা। শেষ পর্যন্ত ৭৩ হাজার টাকা ব্যয়ে তার ঘর তুলে দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী একটি সংগঠন।

ঝর্না বেগমের অসহায় অবস্থা দেখে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় ‘উইকেয়ার’ নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি। শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঝর্ণা বেগমের কাছে ঘরটির চাবি হস্তান্তর করেন উইকেয়ারের সমন্বয়ক সঞ্জয় সাহা ও সংগঠনের সদস্যরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ৩ বছর আগে মারা যান ঝর্ণা বেগমের স্বামী মোসলেম খা। এরপর থেকে অভাব অনটনের মাঝেই দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে দিন পার করতেন তিনি। তার বড় মেয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী, ছোটো মেয়ে জেএসসি পরীক্ষার্থী এবং একমাত্র ছেলে জাহিদ খা চতুর্থ শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। দারিদ্রতা ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী, পাড়া প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে সাহায্য সহযোগিতায় কোনো রকম একবেলা খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতো পরিবারটি।

ঝর্না বেগম বলেন, ‘স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ অনেক বড় বড় লোকদের কাছে গিয়েছি একটি নতুন ঘরের জন্য। নিজের কষ্টের কথা বলেছি। সবাই শুনেছে। অনেকেই কথা দিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। আমার কষ্টে কেউ এগিয়ে আসেনি। ঘর তো দূরের কথা, না খেয়ে থাকলেও কেউ খোঁজ নেননি। ঝড়-বৃষ্টির দিনে ছেলেমেয়েদের নিয়ে খুব কষ্টের মধ্যে দিন-রাত কাটাতাম। এখন আর কষ্ট হবে না। ছেলেমেয়েকে নিয়ে শান্তিতে রাতে ঘুমাতে পারবো। ছেলেমেয়েরা এখন পড়ালেখা করতে পারবে।’

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উইকেয়ারের সমন্বয়ক সঞ্জয় সাহা জাগো নিউজকে জানান, ‘ফরিদপুর সিটি’ ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ঝর্ণা বেগমের কষ্টের কথা জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হয়। সে হিসেবে তাকে একটি নতুন ঘর করে দেওয়া হয়। এতে খরচ হয়েছে ৭৩ হাজার টাকা। এছাড়াও করোনার সময়ে তাকে কিছু নগদ অর্থ, চাল, ডালসহ ত্রাণ সামগ্রী দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলীর বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।

এন কে বি নয়ন/এফআরএম/এমএস