দেশজুড়ে

মুন্সিগঞ্জে খাবার সংকটে ভাঙছে বানর-মানুষের সখ্য

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে খাহ্রা ও মদনখালী গ্রামে শতবছর ধরে মানুষের সঙ্গে বসবাস করছে কয়েকশ বানরের দল। স্থানীয়দের কাছে বানরগুলো গ্রামের ঐতিহ্যের অংশ। তাই বানরের গ্রাম বলেও সুপরিচিত। এসব বানর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকেও ছুটে আসেন অনেকে।

Advertisement

বর্তমানে খাবার সংকটে ভাঙতে শুরু করেছে বানরের সঙ্গে এলাকাবাসীর সখ্য। এতে বিড়ম্বনা ও আক্রমণ আতঙ্কে দিন কাটছে দুটি গ্রামের ১০ হাজারের অধিক পরিবারের।

সরেজমিনে গ্রাম দুটিতে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তা, বাড়ির উঠান, ছাদ, টিনেরচাল, গাছপালা সব জায়গায় বিচরণ করছে ছোট-বড় বানরের দল। কোনো দলে ২০টি, কোনো দলে ৩০টি আবার কোনো দলে এর চেয়েও বেশি বানর রয়েছে। খাহ্রা ও পার্শ্ববর্তী মদনখালী গ্রামেরও একই চিত্র। যেন একটি সাফারি পার্ক।

স্থানীয়রা জানান, সময়ের সঙ্গে বংশ বিস্তারে বেড়েছে বানরের সংখ্যা। অন্যদিকে ক্রমশ কমেছে গাছপালা ও খাবারের উৎস। খাবার সংকটে বর্তমানে বেড়েই চলছে বানরের উপদ্রব। সমস্যা এতটাই প্রকট যে, ঐতিহ্যের অংশ বানরের বিড়ম্বনায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।

Advertisement

আক্রমণের শিকার হচ্ছে ছোট-বড় অনেকে। ঘরে রাখা খাবার লুট, সবজি, ফলমূল খেয়ে বিনষ্ট আর গৃহপালিত পশুর ওপরও হামলা চালাচ্ছে প্রায়। নিত্যপ্রয়োজনে চলাচল ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হচ্ছে আক্রমণের ভয় নিয়ে।

এদিকে হামলা-আক্রমণ করলেও গ্রামবাসীর কেউ ক্ষতি করে না বানরদের। উল্টো নিজেদের সাধ্যমতো দিচ্ছেন খাবারও। তবে দ্রুত এমন পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে চান এলাকাবাসী। এখনই উদ্যোগ না নেওয়া হলে একদিকে যেমন বাড়বে গ্রামবাসীর ভোগান্তি অন্যদিকে অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়তে পারে বানর। মানুষের নিরাপত্তার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি তাদের।

স্থানীয় সম্পা মজুমদার জানান, বানরগুলো অসুস্থ হলে আমাদেরই খারাপ লাগে, আমরা খাবার দিই পরিবারের সদস্যদের মতোই। কিন্তু বানরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় এখন সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। বন বিভাগ কিংবা প্রশাসন থেকে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।

দোকানদার আনন্দ মণ্ডল জাগো নিউজকে বলেন, দোকানদারি করতে পারি না। আক্রমণ থেকে বাঁচতে দোকানের সামনে নেট লাগাইতে হইছে। খুবই সমস্যায় আছি আমরা।

Advertisement

এক স্কুলছাত্রী জানায়, প্রতিদিন ২০০-৩০০ ছাত্রছাত্রী দুই গ্রাম থেকে স্কুল-কলেজে যায়। বানর দল প্রায় সময় আক্রমণ করে। কয়েকদিন আগে আমার এক বান্ধবীকে কামড় দিয়ে মারাত্মক জখম করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাদিম বলেন, বানরের যন্ত্রণায় দিনের বেলা খাবার নিয়ে বাসায় আসা যায় না। রাতে লুকিয়ে খাবার আনতে হয়। এলাকার গাছপালার সব ফল বানর খেয়ে ফেলে। হয় বানরগুলোকে খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে নয়তো বন বিভাগকে অন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. লুৎফর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, কয়েকদিন আগে চিপস খাচ্ছিলাম। বানর থাবা দিতে গিয়ে আমার হাত ভেঙে ফেলে। খাহ্রা গ্রামের এমন কেউ নাই যে আক্রমণের শিকার না হচ্ছে।

এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবু তাহের জাগো নিউজকে বলেন, গ্রাম দুটিতে বহু বছর ধরে বানর আছে। হয়তো খাবার সংকটে বন্যপ্রাণীদের আক্রমণ বাড়ছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারিভাবে খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এরপরও অতিরিক্ত উপদ্রবকারী বানরগুলোকে প্রাকৃতিক বন ও সাফারি পার্কে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আরাফাত রায়হান সাকিব/এসজে/এএসএম