দেশজুড়ে

যুবদল নেতার মারপিটে পা হারালেন মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক

বগুড়ার শাজাহানপুরে মেহেদি হাসান ওরফে রাজু (৩০) নামের একজন মানসিক প্রতিবন্ধীকে পিটিয়ে এক পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মারুফ হোসেন (২৮) নামের এক যুবদল নেতা বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় মেহেদিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে তার পা কেটে ফেলা হয়।

প্রতিবন্ধী মেহেদি হাসান শাজাহানপুর উপজেলার চোপীনগর ইউনিয়নের শাহনগর বিলায়েতপাড়া গ্রামের দিনমজুর আজাহার আলী ওরফে রাজা মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় মেহেদির ভাই আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে শাজাহানপুর থানায় মামলা করেছেন।

যুবদল নেতা মারুফ হোসেন উপজেলার শাহনগর ডাক্তারপাড়া গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে। তিনি উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার নামে থানায় একাধিক নাশকতার মামলা রয়েছে।

মেহেদির ভাই আলমগীর হোসেন বলেন, তার বড়ভাই মেহেদি হাসান একজন মানসিক প্রতিবন্ধী। ঝোপ-ঝাড়ে বাঁশের কঞ্চির খুঁটি গেড়ে প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে ঘর বানিয়ে খেয়ালখুশি মতো থাকতেন। গত ২০ আগস্ট দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মেহেদি হাসান বাড়ির অদূরে বাঁশঝাড়ের ভেতর গিয়ে দেখেন তার ঝুপড়ি ঘরে যুবদল নেতা মারুফ হোসেনসহ ৪-৫ জন বসে আড্ডা দিচ্ছেন। তখন তাদের ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলেন মেহেদি। এতে যুবদল নেতা মারুফ হোসেন তার ভাইকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি হয়।

পরের দিন মারুফ হোসেন লাঠি হাতে মেহেদি হাসানকে খুঁজতে থাকেন। বিকেল ৩টার দিকে বাঁশঝাড়ের ভেতর মেহেদিকে একা পেয়ে লাঠি দিয়ে এলোপাথারি মারপিট করেন। একপর্যায়ে পিটিয়ে ডান পায়ের হাঁটুর নিচে থেঁতলে ভেঙে দেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘ এক মাস চিকিৎসা চলাকালে বেশ কয়েকবার অস্ত্রোপচার করার পরও মাংস পচে খসে পড়তে থাকে। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে মঙ্গলবার বিকেলে হাঁটুর ওপর পর্যন্ত কেটে ফেলা হয়।

এর আগে এ ঘটনায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর শাজাহানপুর থানায় মামলা করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাকে গ্রেফতার করছে না পুলিশ।

মেহেদি হাসানের বাবা আজাহার আলী ওরফে রাজা মিয়া বলেন, মেহেদি হাসান চার বছর আগেও সুস্থ ছিলেন। পেশায় একজন দক্ষ রংমিস্ত্রি ছিলেন। চার বছর আগে তাকে বিয়ে হয়। বিয়ের পর মেহেদির মাথায় সমস্য দেখা দেয়। ধীরে ধীরে এ সমস্যা বাড়তে থাকে। এ অবস্থায় এক বছর পর তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যান।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য (মেম্বার) এমরান হোসেন বলেন, মেহেদি হাসানের স্বজনেরা বিষয়টি জানালে তাদের আইনের আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে যুবদল নেতা মারুফ হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এসআর/এএসএম