একটি মাছ শিকার করেই সারাদিনের কষ্ট দূর হয়ে গেলো ইউনুছ আলীর। আট কেজি ওজনের একটি কাতল মাছ শিকার করে শৌখিন মাছ শিকার প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার হিসেবে তিনি জিতে নিলেন দুই লাখ টাকা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের কলেজপাড়ার দিরেশ দিঘিতে শুক্রবার বড়শি দিয়ে শৌখিন মাছ শিকার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে এ শৌখিন প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতার প্রথম পুরস্কার ছিল দুই লাখ টাকা। প্রতি আসনে বসতে শিকারীদের টিকিটের মূল্য ছিল ২২ হাজার টাকা। কালীকচ্ছ বন্ধু কল্যাণ মৎস্য প্রকল্প নামের একটি সংগঠন এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিবছর উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের কলেজপাড়ার দিরেশ দিঘিতে মাছ শিকার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার আয়োজিত প্রতিযোগিতায় ৩১ জন শৌখিন শিকারি অংশ নেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও তাদের অনেকের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ জেলায়। তাদেরই একজন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আমতলা গ্রামের ইউনুছ আলী।
শৌখিন মাছ শিকারি ইউনুছ আলী এর আগেও একই দীঘিতে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তখনও একাধিক পুরস্কার জিতেছেন। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তার বড়শিতে আটকা পড়ে আট কেজি ওজনের কাতল মাছ। বিকেল পর্যন্ত ওই একটি মাত্র মাছ ধরা পড়ায় কিছুটা হতাশ ছিলেন ইউনুছ আলী। তবে প্রতিযোগিতা শেষে ফলাফলে তার মাছটিই সবচেয়ে বড় ও বেশি ওজনের বলে চিহ্নিত হয়। তাতে এক মাছেই সারাদিনের কষ্ট ফুরোলো এ শিকারির।
ইউনুছ আলী জাগো নিউজকে বলেন, সারাদিন মন খারাপ হচ্ছিল। অবশেষে মন ভাল হয়ে গেল প্রথম পুরস্কার পেয়ে। এর আগেও আমি এ দীঘিতে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি। তখনও পুরস্কার জিতেছি।
প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় থেকে সপ্তম পুরস্কার পর্যন্ত আরও ২ লাখ ৮৩ হাজার টাকার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ মাছ শিকারের প্রতিযোগিতা দেখতে দিঘির চারপাশে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
শৌখিন মৎস্য শিকার সমিতির সভাপতি রতন বক্স জাগো নিউজকে জানান, আমরা প্রতি বছরের মতো এ বছরও মাছ শিকার প্রতিযোগিতার আয়োজন করি। আগামী ১৫ অক্টোবর একই রকম আসর বসবে উপজেলার সরাইল সরকারি কলেজ দিঘিতে।
আবুল হাসনাত মো. রাফি/এমকেআর