লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ছয় ছাত্রের মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় করা নির্যাতন মামলায় মাদরাসা শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির মঞ্জুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে তাকে লক্ষ্মীপুর আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিক্ষক মঞ্জুকে উপজেলার বামনী ইউনিয়নের কাজিরদিঘীর পাড় এলাকা থেকে আটক করা হয়। ওইদিন রাতেই এক মাদরাসাছাত্রের মা বাদী হয়ে শিশু নির্যাতন দমন আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
শিক্ষক মঞ্জু রায়পুর উপজেলার হামছাদী কাজিরদিঘীরপাড় আলিম মাদরাসার সহকারী শিক্ষক ও বামনী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির।
১৮ সেপ্টেম্বর শ্রেণিকক্ষে পাঠ্য কার্যক্রমে অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে শিক্ষক মঞ্জুরুল কবির দশম শ্রেণির (দাখিল) ছয় ছাত্রকে দাঁড় করিয়ে শ্রেণিকক্ষের সামনের বারান্দা আসতে বলেন। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে একটি কাঁচি এনে একে-একে সবার মাথার টুপি সরিয়ে সামনের অংশের চুল এলোমেলোভাবে কেটে দেন। পরে তারা লজ্জায় ক্লাস না করেই বেরিয়ে যায়।
এ ঘটনার ১ মিনিট ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শুক্রবার (৮ অক্টোবর) সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে দেখা যায়। ভিডিওতে কয়েকজন ছাত্রকে কান্না করতেও দেখা গেছে।
এ ব্যাপারে হামছাদী কাজির দিঘীরপাড় আলিম মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি রোটারিয়ান রফিকুল হায়দার চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের সচেতন করা হয়েছে। শিক্ষার্থী বা শিক্ষার্থীদের কোনো অভিভাবকই আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি।
জানতে চাইলে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিল বলেন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্রের মা মামলা করেছেন। মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে।
কাজল কায়েস/এসজে