ফেনীর ছাগলনাইয়া পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে যাওয়ার পথে হামলা ও অপহরণের শিকার হয়েছেন আবদুল হালিম নামের এক মেয়র প্রার্থী। এ সময় হামলাকারীরা তার সঙ্গে থাকা মনোনয়নপত্র, মোবাইলসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেন।
রোববার (১০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কাছে এ ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যার দিকে ছাগলনাইয়া থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্ত মেয়রপ্রার্থীর পরিবার জানায়, তফসিল অনুযায়ী রোববার ছাগলনাইয়া পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। বিকেল ৩টার দিকে মেয়রপ্রার্থী আবদুল হালিম ও তার পরিবারের সদস্যরা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাচ্ছিলেন। এ সময় উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন স্থানে আবদুল হালিমকে বহনকারী গাড়ি আসার সঙ্গে সঙ্গে নৌকা সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র মোস্তফার ভাগিনা নাসির উদ্দিন ও পৌরসভার কর্মকর্তা জিয়াউল হক বাবলুর নেতৃত্বে ৮-১০ জন অতর্কিত হামলা চালান। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মেয়রপ্রার্থী আবদুল হালিমকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়রপ্রার্থী আবদুল হালিম বলেন, আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা হয়েছে। হামলায় আমার শিশুপুত্র আলভি আহত হয়েছে। আমি যাতে মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারি সেজন্য এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আমি কাউকে ছিনতে পারিনি। আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ দেখলে হামলাকারীদের চিহ্নিত করা যাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন বলেন, ‘বেলা ৩টা ২০-২৫ মিনিটের দিকে আমি আমার অফিসে বসা ছিলাম। হট্টোগোল শুনতে পেয়ে নিচে নেমে দেখি আমার অফিস থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে কয়েকজন ছেলে একটা লোককে টেনেহিঁচড়ে উপজেলা গেটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ওই ব্যক্তিটিকে আমি ছিনি নাই। পরে শুনেছি তিনি মেয়রপ্রার্থী ছিলেন।’
ছাগলনাইয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। এক পর্যায়ে পৌর শহরের বাঁশপাড়া এলাকা থেকে আবদুল হালিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হামলার বিষয়ে অভিযুক্ত নৌকা প্রতীকের মেয়রপ্রার্থী ও বর্তমান মেয়র মো. মোস্তফা বলেন, ঘটনার সময় আমি ফেনীর বাইরে ছিলাম। খবর পেয়ে আবদুল হালিমকে বাড়িতে গিয়ে দেখে আসি। হামলাকারীরা আমার লোক বা স্বজন কি না তা আমার জানা নেই।
নুর উল্লাহ কায়সার/এসআর/জেআইএম