বৈশ্বিক ক্ষুধা নিবারণ সূচকে আগেও খুব একটা ভালো অবস্থানে ছিল না ভারত। এ বছর তারা আরও পিছিয়েছে। বাংলাদেশ, নেপাল তো বটেই, এই সূচকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের চেয়েও পিছিয়ে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশটি। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার।
গত বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত হয়েছে গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই)-২০২১। এতে দেখা যায়, এবারের তালিকায় বাংলাদেশ ৭৬, পাকিস্তান ৯২ ও ভারত ১০১তম অবস্থানে রয়েছে।
গত বছর জিএইচআই সূচকে ১০৭টি দেশের মধ্যে ভারত ছিল ৯৪ নম্বরে। আর এ বছর ১১৬টি দেশের মধ্যে তাদের অবস্থান দাঁড়িয়েছে একশ’র ওপরে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সোজা সাত ধাপ নিচে নেমেছে ভারতীয়রা।
গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স প্রতিবেদনে ভারতে ক্ষুধাবৃদ্ধির হারকে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ নিয়ে মোদী সরকারকে রীতিমতো তুলোধুনো করছেন সমালোচকেরা।
ছবি: সংগৃহীত
বিরোধী দল কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা কপিল সিবাল টুইটারে নরেন্দ্র মোদীকে কটাক্ষ করেছেন। বর্তমান সরকার দারিদ্র্য, ক্ষুধাদূরীকরণ এবং ভারতকে বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার যে দাবি করে, সেগুলোর পাশাপাশি ২০২০ ও ২০২১ সালে জিএইচআই সূচকে দেশটির অবস্থান উল্লেখ করে তার জন্য ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে ‘ধন্যবাদ’ জানিয়েছেন এ নেতা।
Congratulations Modi ji for eradicating :1) poverty2) hunger3) making India a global power4) for our digital economy 5) …………… so much moreGlobal Hunger Index :2020 : India ranked 942021 : India ranks 101Behind Bangladesh , Pakistan & Nepal
— Kapil Sibal (@KapilSibal) October 15, 2021সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। একজন মজা করে লিখেছেন, বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখলেই হয়। সেঞ্চুরি তো হয়েছে!
আরেকজন মোদীর বহুল ব্যবহৃত বচন ‘ভালো দিন আসবে’ (আচ্ছে দিন আয়েগা) উল্লেখ করে বলেছেন, বিজেপি ভালো দিন দিয়েছে।
অবশ্য কেউ কেউ এর জন্য শুধু সরকারকে দায়ী না করে জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন। একজন লিখেছেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধিই আসল সমস্যা। আমাদের অবশ্যই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন, নাহলে শুধু সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগই করতে থাকবো।
এছাড়া, ভারতে ক্ষুধাবৃদ্ধির পেছনে করোনাভাইরাস মহামারি এবং এ সম্পর্কিত বিধিনিষেধেরও বড় প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: এনডিটিভি
কেএএ/এএসএম