দেশজুড়ে

জমির দলিল কব্জায় নিতে লোক দিয়ে বাবা-মাকে হত্যা

বাবার জমির দলিল ডাকাতির মাধ্যমে নিজের কব্জায় নিতে ছেলে মিঠু তার ফুফাতো ভাই সুলতান মাহমুদের সঙ্গে পরিকল্পনা করেন। বিনিময়ে বাড়িতে থাকা টাকা-পয়সা যা পাওয়া যাবে তা নেবেন সুলতান। পরিকল্পনা অনুযায়ী সুলতান তার ছয়জন সহযোগীকে নিয়ে রাতে বাড়ির দেওয়াল টপকে বাসায় প্রবেশ করে লুণ্ঠন করতে থাকেন। এসময় হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে হাফিজুল ইসলাম অজ্ঞান হয়ে পড়লে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে পাশের কক্ষে স্ত্রী ফেন্সি বেগমকেও হাত-পা বেঁধে একই কায়দায় হত্যা করে বাড়ির অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায় ডাকাত দল। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই দম্পতির বড় ছেলেসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১০ নভেম্বর) রাতে দিনাজপুরের বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শচীন চাকমা।

আটকরা হলেন-নিহত দম্পতির বড় ছেলে মো. আব্দুল মতিন মিঠু (৫০), নবাবগঞ্জ উপজেলার ধরঞ্জী গ্রামের রাজা মিয়ার ছেলে রাজন মিয়া (২৫) এবং একই এলাকার এনামুল হকের ছেলে উজ্জ্বল হোসেন (২৫)।

গত ৪ নভেম্বর দিনগত রাতে উপজেলার ভাদুরিয়া ইউনিয়নের কাজলদীঘী গ্রামে নিজ বাড়িতে হত্যার শিকার হন হাফিজুল ইসলাম ও ফেন্সি বেগম দম্পতি। হাফিজুলের মরদেহ কম্বল দিয়ে মোড়ানো ছিল। আর তার স্ত্রীর মুখে স্কচটেপ দিয়ে আটকানো এবং হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ছিল। পরেরদিন সকালে স্থানীয়রা অস্বাভাবিক অবস্থায় তাদের পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পরদিন নিহত দম্পতির ছোট ছেলে আব্দুল মালেক নবাবগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের নামে একটি ডাকাতির মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে নবাবগঞ্জ থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের দুটি প্রতিনিধি দল হত্যার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছিল।

পুলিশ জানায়, নিহতের বড় ছেলে মিঠুর মধ্যে কিছু অস্বাভাবিক আচরণ চোখে পড়ে। ধীরে ধীরে তার প্রতি নিহতের স্বজনদের সন্দেহ বাড়তে থাকে। ঘটনায় সরাসরি জড়িত রাজন মিয়াকে বুধবার রাতে দিনাজপুর সরকারি কলেজ মোড় এবং উজ্জ্বল হোসেনকে নবাবগঞ্জ দাউদপুর এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যে নিহত ওই দম্পতির বড় ছেলে আব্দুল মতিন মিঠুকে রাতেই আটক করা হয়।

দিনাজপুর পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীকে আটক করা হয়েছে। অন্যদেরও আটক করার চেষ্টা চলছে। আমরা এরই মধ্যে নাম-পরিচয় জানতে পেরেছি। তদন্তের স্বার্থে কিছু বলা যাচ্ছে না।

এমদাদুল হক মিলন/এসআর/এএসএম