দেশজুড়ে

জুতা ছাড়াই চলেন দুইবারের ইউপি মেম্বার জয়নাল

ব্যতিক্রমী এক মানুষ টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের মহানন্দাপুর বাশারচালা গ্রামের জয়নাল আবেদিন (৬৬)। দুবার নির্বাচিত এ ইউপি সদস্য ৩০ বছর ধরে জুতা ছাড়াই চলাফেরা করছেন। এলাকায় তিনি ‘জুতা ছাড়া মেম্বার’ হিসেবে পরিচিত।

জয়নাল আবেদিন বাশার চালা গ্রামের মৃত গফুর মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন পোলট্রি খাবার বিক্রেতা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর ধরে জুতা ছাড়াই চলাফেরা করছেন জয়নাল মেম্বার। শীত, বর্ষা কোনো সময়ই তিনি জুতা পড়েন না। নিজ বাড়ি, অফিস-আদালত, মসজিদ, মাদরাসা—সব জায়গায় তিনি জুতা ছাড়া চলাফেরা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম (৭০) বলেন, ‘জয়নাল মেম্বার খুবই ভালো মানুষ। বিপদে আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো তার একটা ভালো গুণ। এ কারণে এলাকার মানুষ তাকে দুইবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত করেছেন।’

স্থানীয় মুসল্লি আতোয়ার রহমান বলেন, জয়নাল আবেদিন নিয়মিত মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। দীর্ঘদিন ধরে তাকে জুতা ছাড়াই চলাচল করতে দেখে আসছি। ব্যক্তি হিসেবে ভালো ও জনপ্রিয় হওয়ায় তিনি দুবার ইউপি সদস্যও নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মেম্বারদের সংগঠনের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা শুনেছি তিনি পীর ধরা (পীরের অনুসারী)। পীরের নির্দেশেই তিনি জুতা ছাড়া চলাফেরা করেন।

১৯৬৯ সালে কালিহাতী উপজেলার আউলিয়াবাদ কলেজে অফিস সহকারী পদে যোগদান করেন জয়নাল আবেদিন। ২০০০ সালে চাকরি থেকে অবসরে যান। চাকরিরত অবস্থায় তিনি কালিহাতীর ডা. আজহারুল ইসলাম পীরের মুরিদ হন। পীর তাকে জুতা ছাড়া চলাফেরা করার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ অনুসারেই ৩০ বছর ধরে জুতা ছাড়া চলাফেরা করছেন জয়নাল আবেদিন।

চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর নিজ এলাকায় পোলট্রির খাবার বিক্রির ব্যবসায় যুক্ত হন। ব্যবসার পাশাপাশি এলাকার মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নিয়ে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হন। ১৯৯৭ থেকে ২০০২ এবং ২০১৬ থেকে ২০২১ সালে পর্যন্ত তিনি কাকড়াজান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার নির্বাচিত হন। বর্তমানে কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারদের সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জয়নাল আবেদিন।

ব্যক্তিজীবনে তিন মেয়ে ও এক ছেলের বাবা জয়নাল। তিন মেয়ে জোহরা আক্তার, জয়নব আক্তার ও শিরিন আক্তারের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে সিয়াম আহমেদ অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। পরিবারের সদস্যরাসহ সবাই তার এই ব্যতিক্রম জীবনযাপন মেনে নিয়েছেন।

জয়নাল আবেদিন বলেন, জুতা ছাড়া চলাফেরা করতে কোনো সমস্যা হয় না। পিচের তৈরি পাকা সড়ক কিংবা কাঁচা সড়কে খালি পায়ে চলার সময় ব্যথা পান না। বড় ধরনের কোনো রোগব্যাধি হয়নি। এমনকি চোখের জ্যোতিও কমেনি। বরং জুতা ছাড়া চলাফেরা করতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন ও অনেক উপকার পেয়েছেন বলে দাবি করেন। এবারের নির্বাচনে পরাজিত হওয়া সত্ত্বেও আজীবন জনগণের সেবা করা প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ব্যতিক্রম জীবনযাপনে অভ্যস্ত এ মানুষটি।

কাকড়াজান ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. দুলাল হোসেন বলেন, ‘গুরু ধরা মানুষ জয়নাল আবেদিন। গুরুর আদেশ মান্য করতেই তিনি দীর্ঘদিন জুতা ছাড়া চলাফেরা করছেন। আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি, তিনি ভালো মানুষ।’

আরিফ উর রহমান টগর/এসআর/এএসএম