বাংলাদেশে শ্রীলঙ্কার হাইকমিশনার সুদর্শন দিপাল সুরেশ সিনিভিরাত্নে বলেছেন, কক্সবাজারে বিনোদনের সবধরনের উপলক্ষ্য বিদ্যমান। সঠিক পরিকল্পনায় এটি সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক জোন হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। কক্সবাজারকে বিশ্বমানের পর্যটন অঞ্চল ও অর্থনেতিক জোন বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী শ্রীলঙ্কা।
মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কক্সবাজার সী পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পাতে ৫ দিনব্যাপী ‘শ্রীলঙ্কান ফুড ফেস্টিভ্যাল’ উদ্বোধনকালে শ্রীলঙ্কান হাইকমিশনার এসব কথা বলেন।
শ্রীলঙ্কান হাইকমিশনার আরও বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতের শহর কক্সবাজারের সমুদ্রপাড়ে শ্রীলঙ্কান আবহ উপভোগ করছি। সী পার্ল হোটেলের স্টাফরা আমাদের সঙ্গে শ্রীলঙ্কান ভাষায় আতিথিয়েতা দিচ্ছেন। ফেস্টিভ্যালে শ্রীলঙ্কার অনত্যম সব মুখরোচক ও প্রসিদ্ধ খাবার প্রদর্শন হচ্ছে। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে আমি পরিবারবর্গ নিয়ে শ্রীলঙ্কার পরিচিত কোনো স্থানে অবস্থান করছি। এটা সম্মানের এবং গর্বের।
হোটেলের কাসবাহ রেস্তোরাঁ গ্রাউন্ডে সী পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা ও শ্রীলঙ্কার হাইকমিশন যৌথভাবে এ ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করেছে। এর এয়ারলাইন পার্টনার নভো এয়ারওয়েজ।
উদ্বোধনীতে সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পার গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার আজীম শাহ, সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) নাভিদ আহসান চৌধুরী, রেস্তোরাঁ ম্যানেজার আশিক আয়ানসহ হোটেলের পদস্থ কর্মকর্তা-কর্মজীবী ও শ্রীলঙ্কান হাইকমিশনারের পরিবারবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন শেষে হোটেলের শ্রীলঙ্কান শেফ মিলরয় নানায়াক্কারা অতিথিদের স্টলের খাবারগুলো প্রদর্শন ও স্বাদ সম্পর্কে বর্ণনা দেন।
মঙ্গলবার শুরু হওয়া ফুড ফেস্টিভ্যালটি চলবে আগামী ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত ফেস্টিভ্যালে যে কেউ চাইলে ৩ হাজার ৯৯৯ টাকায় ব্যুফে ডিনার হিসেবে খাবারগুলোর স্বাদ নিতে পারেন। দু'জনের খাবারের দামে তৃতীয় জনের খাবার ফ্রি হিসেবে দেয়ার ঘোষণা রয়েছে আয়োজকদের।
এজিএম নাভিদ আহসান চৌধুরী জানান, ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শন করা শ্রীলঙ্কান খাবার স্বাদের দিক দিয়ে সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় রান্নার একটি। শ্রীলঙ্কার খাদ্যের সংস্কৃতি সমৃদ্ধ। সামুদ্রিক খাবার, বিভিন্ন তরকারির সুস্বাদু সংমিশ্রণ ভোজন রসিকদের আনন্দ দিবে। শ্রীলঙ্কার রন্ধনপ্রণালী উপভোগ করাতেই কক্সবাজারের খাদ্য অনুরাগীদের জন্য এ উৎসবটি আয়োজন। খাবারের সুস্বাদু সমন্বয় আপনাকে রৌদ্রোজ্জ্বল সৈকত এবং শ্রীলঙ্কার নীল জলের আবহ এনে দিবে।
আয়োজকরা জানান, আন্তর্জাতিক শ্রীলঙ্কান এ্যাক্সিকিউটিভ শেফ মিলরয় নানায়াক্কারা তার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে শ্রীলঙ্কান স্বাদের খাবারগুলো একত্রিত করে উৎসবের আমেজ এনে দিয়েছেন।
ফেস্টিভ্যালে পরিবেশিত খাবারের মাঝে অন্যতম হলো, ব্রিন্জেল মোজু, কুট্টু, হপারস, ফ্রন্ট কারি কোকোনাট, ফিশ আম্বুল থিয়াল, হালমানু থেলডালা, ফিশ অ্যাম্বুল থিয়াল (মালু আম্বুল থিয়াল), চিংড়ি কারি, গরুর মাংস মরিচের আইটেম। ফেস্টিভ্যালে ৯০-৯৫ রকমের মুখরোচক খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
ডেজার্ট আইটেম হিসেবে শ্রীলঙ্কার জনপ্রিয় মিষ্টি খাবার ওয়াটালাপ্পান (গুড়ের পুডিং), শ্রীলঙ্কান প্যানকেক এবং থালা কারালি উৎসবে পরিবেশন করা হচ্ছে। যারা শ্রীলঙ্কার সুস্বাদু খাবারের স্বাদ নিতে আগ্রহী তাদের জন্য ফুড ফেস্টিভ্যাল উন্মুক্ত।
যেকেউ চাইলে ০১৮৪৪০১৬০১৬ এ মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করে বুকিং দিয়ে জমকালো বুফেতে অংশ নিতে পারবেন বলে উল্লেখ করেছেন হোটেলের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবরার রাজ্জাক।
সায়ীদ আলমগীর/এফএ/জেআইএম