দেশজুড়ে

দুর্নীতি থেকে দূরে থাকার অঙ্গীকার পুলিশে চাকরি পাওয়া ৬২ জনের

চাকরি জীবনে দুর্নীতি থেকে দূরে থাকার অঙ্গীকার করেছেন ঘুস ও তদবির ছাড়াই পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ পাওয়া ৬২ জন ছেলে-মেয়ে।

শনিবার (২৭ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে এ অঙ্গীকার করেন।

এ সময় দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) শচীন চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোমিনুল করিমসহ পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত হওয়া শরিফুল আলম বলেন, আমার বাবা একজন রিকশাচালক। মা অনেক আগেই মারা গেছেন। আমি নানার কাছে মানুষ হয়েছি। পুলিশের নিয়োগের জন্য আবেদন করার পর থেকেই শুনছিলাম টাকা ছাড়া চাকরি হবে না। ১৬ নভেম্বর যখন পুলিশ লাইন্সের মাঠে পুলিশ সুপার বললেন তোমাদের বিনা টাকায় চাকরি হবে, তখন আশ্বস্ত হয়েছিলাম। পরিশ্রম ও মেধা দিয়ে পুলিশ কনস্টেবলের জন্য নির্বাচিত হয়েছি। পুলিশ সুপার কথা রেখেছেন। আমিও অঙ্গীকার করছি নিজেকে দুর্নীতি মুক্ত রাখবো।

বীরগঞ্জের বর্ষা রানী রায় বলেন, আমার বাবা একজন বর্গাচাষি। প্রায় একবছর আগে মা মারা যান। অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছি। মায়ের মৃত্যুর পর সংসারের সব কাজ আমাকে করতে হয়। কোনোদিন ভাবিনি টাকা ছাড়াই চাকরি হবে। আমি চাকরি জীবনে বেতনভাতা ছাড়া কারও কাছ থেকে কোনো ঘুস নিবো না।

পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশের আইজিপি পুলিশ নিয়োগের একটি সিস্টেম চালু করেছেন। এ বিষয়ে প্রতিটি জেলায় একজন করে পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সেই সিস্টেমের কারণে পুলিশ নিয়োগে কোনো অনিয়ম সম্ভব নয়। এরই ধারাবাহিকতায় দিনাজপুরে এ নিয়োগ কার্যক্রম সর্বোচ্চ সচ্ছতার সঙ্গে করা হয়েছে। চাকরি নয় সেবার মন মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশে চাকরিতে আবেদন করার আগে ১০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট করতে হয়। এছাড়া ১৫ থেকে ২০ টাকা আবেদনের জন্য কাগজপত্র ফটোকপি করার প্রয়োজন পরে। আমরা মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের খরচ হওয়া ১২০ টাকা উপহার স্বরূপ ফেরত দিয়েছি। অর্থাৎ দিনাজপুরে পুলিশে নিয়োগ কোনো টাকাই লাগেনি। এছাড়া নিয়োগ চলার সময় তিনটি প্রতারণা মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন প্রক্সি দিতে এসে আটক হয়।

এমদাদুল হক মিলন/এসজে/এমএস