দেশজুড়ে

কাউন্সিলর সোহেল হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রসহ যুবক গ্রেফতার

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর সোহেলসহ দুজনকে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রসহ শাখাওয়াত হোসেন জুয়েল নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর আহম্মেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, কাউন্সিলর সৈয়দ মোহাম্মদ সোহেল ও তার সহযোগী হরিপদ সাহাকে হত্যার পর দিন শাহ আলম নাঙ্গলকোটের গান্দাচি গ্রামে জুয়েলের বাড়িতে আশ্রয় নেন। ২০১৪ সালে জুয়েলের সঙ্গে শাহ আলমের কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পরিচয় হয়। এরপর দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। হত্যাকাণ্ডের দিন রাতেই জুয়েলকে অস্ত্রগুলো নিরাপদে রাখতে বলেন শাহ আলম। সেখানে একদিন থাকার পর ২৪ নভেম্বর শাহ আলম সেখান থেকে অজ্ঞাত স্থানে চলে যায়।

এম তানভীর আহম্মেদ আরও বলেন, খবর পেয়ে ৩০ নভেম্বর রাতে জুয়েলের বাড়িতে অভিযান চালায় কুমিল্লা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার, দুটি ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শাহ আলম ও জুয়েলকে আসামি করে কুমিল্লা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপ-পরিদর্শক পরিমল দাস বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা করেন। একইসঙ্গে অস্ত্রগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে।

এর আগে ২২ নভেম্বর বিকেল ৪টার দিকে নগরীর পাথুরিয়াপাড়া এলাকার নিজ কার্যালয়ে বসেছিলেন কাউন্সিলর সোহেল। এ সময় মুখোশধারী একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তিনিসহ অন্তত পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাউন্সিলর সোহেল ও হরিপদ সাহা মারা যান।

ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) রাত সোয়া ১২টার দিকে কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেলের ছোট ভাই সৈয়দ মো. রুমন বাদী হয়ে মামলা করেন। এতে নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলমসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ জনকে আসামি করা হয়।

এরপর কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জাহিদ পাটোয়ারী/এসজে/এএসএম