দেশজুড়ে

সবাই পাশে দাঁড়ালেও খাবার জোটে না সেই নারীর

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের বিবস্ত্র করে নির্যাতন মামলার আলোচিত সেই বাদী (৩৭) রয়েছেন চরম খাদ্য সংকটে। ঠিতমতো খাবারই জোটে না তার। মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে আলোচিত ওই মামলার রায় ঘোষণার আগে পাবলিক প্রসিকিউটরের (পিপি) কক্ষে তিনি জাগো নিউজকে এ তথ্য জানান।

ওই নারী জানান, ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর মামলার পর থেকে আইনজীবী, প্রশাসন, সাধারণ জনগণ আমাকে মানসিকভাবে সহযোগিতা করলেও আমার সংসারে খাওয়ার মতো পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা কেউ দেয়নি। আমার স্বামীও এখন আমাকে দেখাশোনা করেন না। থাকা-খাওয়ার চরম কষ্টে দিন যাপন করছি। সরকার যদি আমাকে কিছু মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করে অনেক উপকার হয়।

নির্যাতনের শিকার ওই নারী আরও বলেন, ঘরে থাকা ও টয়লেটে যাওয়া নিয়েও সংকট তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন রাখা পুলিশ সদস্যরা যে টয়লেট ব্যবহার করে আমাকেও সেটাই ব্যবহার করতে হয়।

তিনি জাগো নিউজের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তার প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে পুলিশে অথবা অন্য কোথাও চাকরি দেওয়ার জন্য আবেদন জানান। সেই সঙ্গে ভালোভাবে থাকা খাওয়ার নিশ্চয়তাটুকু চান।

এদিকে আসামিদের লোকজন তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার থেকে নিরাপত্তা চাই। এছাড়া এই আসামিরা যাতে কারাগার থেকে জামিনে বের হতে না পারে সেটাই চাই।

২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুরের দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলুসহ ১৪-১৫ জনের একদল দুর্বৃত্ত জোর করে ওই নারীর ঘরে ঢোকেন। ঘরে থাকা নারী ও তার স্বামীকে মারধর, নারীকে বিবস্ত্র করে ধর্ষণের চেষ্টা এবং পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। এর ৩২ দিন পর ৪ অক্টোবর অভিযুক্তরা ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

এরপর হামলার ভয়ে আত্মগোপনে থাকা ওই নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এবং পর্নোগ্রাফি আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী নারী। পিবিআই তদন্তে দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলুসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে ঘটনায় সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পায়। যাদের মধ্যে এজাহারনামীয় আসামি আটজন আর এজাহারবহির্ভূত আসামি ছয়জন।

পিপি মামুনুর রশিদ আরও জানান, এ মামলায় ১৪ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অভিযোগ গঠনের সময় মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগ মেম্বারের নাম বাদ দিয়ে ১৩ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ৯ জন জেলহাজতে রয়েছেন এবং পলাতক আছেন ৪ জন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মার্চ এ মামলার আসামিদের মধ্যে ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মোয়াজ্জেম হোসেন নামের এক আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে দেলওয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার ও তার সহযোগী আবুল কালামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে আরও একটি মামলা দায়ের করেন ওই নারী। চলতি বছরের ৪ অক্টোবর ধর্ষণ মামলার রায়ে দেলোয়ার ও তার সহযোগী আবুল কালামকে যাবজ্জীবন করাদণ্ড দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১।

ইকবাল হোসেন মজনু/এফএ/জিকেএস