নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের কাদিরপুর ইউনিয়নের ঘাটলা গ্রামের বৃদ্ধ লকিয়ত উল্যাহ বড় আশা করে প্রবাসী ছেলের জন্য পাত্রী দেখেছেন। কয়েকদিনের মধ্যে ফ্লাইট চালু হলে ছেলে বাড়ি আসার পর তার বিয়ে দিয়ে ঘরে পুত্রবধূ আনবেন। কিন্তু এক দুর্ঘটনায় এখন বাড়ি আসছে ছেলে জাফর আহমদের (৩২) নিথর দেহ।
সোমবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ প্রদেশের জর্জ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান জাফর আহমদসহ আরও এক বাংলাদেশি। অন্যজন নিহত জাফরের দোকনের কর্মচারী আমিনুল ইসলাম (৩০)। তিনি ঢাকা জেলার বাসিন্দা।
মঙ্গলবার (২১) নিহতের গ্রামের বাড়িতে গেলে শোকাবহ পরিবেশ ও পরিবারে মাতম করতে দেখা যায়। দুই বোন ও চার ভাইয়ের মধ্যে জাফর ছিলেন দ্বিতীয়। তার মৃত্যুতে সমগ্র ঘাটলা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কাদিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ওই এলাকার ভালো ছেলেদের মধ্যে একজন ছিলেন জাফর আহমদ। জীবিকার সন্ধানে প্রায় ১০ বছর আগে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান। সেখানে ভালো ব্যবসা করেন। এলাকায় অনেক দান-খয়রাতও করেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন পর দেশে আসার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ায় তাকে বিয়ে করানোর জন্য পাত্রীও পছন্দ করে রাখা হয়েছে। কিন্তু ওমিক্রনের কারণে ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টিকিট কেটেও আসতে পারেননি জাফর। এদিকে ঘর আলোকিত করে নববধূ নিয়ে আসার আগে তিনি নিজেই আসছেন কফিনবন্দি হয়ে। এই বলে বিলাপ কান্নায় ভেঙে পড়েন জাফরের বাবাসহ পরিবারের লোকজন।
নিহত জাফর আহমেদের খালাতো ভাই মো. শাহাজাদ হোসেন বলেন, স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল ৫টার দিকে মালপত্র নিয়ে দোকানে ফিরছিলেন জাফর আহমেদ ও তার দোকানের লোক আমিনুল ইসলাম। তাদের বহনকারী গাড়িচালক জর্জ এলাকায় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে গুরুতর আহত হন জাফর আহমেদ ও আমিনুল ইসলাম। স্থানীয় লোকজন দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
ইকবাল হোসেন মজনু/এআরএ