স্বামী সোহেল ধার্মিক মানুষ। চাকরি করেন একটি পোশাক কারখানায়। চাকরির ফাঁকে তাবলিগ জামাতে সময় দেন। তারই ধারবাহিকতায় তাবলিগের ৪০ দিনের চিল্লায় গেছেন কুড়িগ্রামে।
এরই মধ্যে ট্রলারডুবির ঘটনায় দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন সোহেলের স্ত্রী জেসমিন (৩২)। দীর্ঘ সাত ঘণ্টা সময় ধরে চেষ্টা চালিয়েও এখন পর্যন্ত তাদের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
বুধবার (৫ জানুয়ারি) সকালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলারডুবির- ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিখোঁজ নয়জনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে জেসমিন, তার মেয়ে তাসনিম আক্তার (১৫), ছেলে তামিম (৮) এবং দেড় বছরের শিশুকন্যা তাসমিয়া রয়েছে।
সোহেল ফতুল্লার বক্তাবলী চরমধ্যনগর এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকেন।
জেসমিনের বড় ভাই বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমার বোন ও ভগ্নিপতি দুজনই ধার্মিক। বোন পর্দা করতেন। কারও সামনে যেতেন না। কোনো ছবিও তুলতেন না। ভগ্নিপতি সোহেল চাকরির ফাঁকে তাবলিগের চিল্লায় যেতেন। সম্প্রতি তিনি ৪০ দিনের চিল্লায় কুড়িগ্রামে গেছেন।’
তার বোন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চরমধ্যনগর এলাকা থেকে পঞ্চবটি এলাকার আমার বাসায় বেড়াতে যাচ্ছিলেন। নদী পারাপারের সময় তাদের বহন করা ট্রলারটি ডুবে যায়। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ রয়েছেন।
বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘ভগ্নিপতি সোহেল খবর শুনে রওনা দিয়েছেন। ফিরে আসবেন কিন্তু তার পরিবারের সদস্যদের হয়তো ফিরে পাবেন না। তাদের সুখের সংসার ছিল। মুহূর্তের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেলো। জানি না তাকে কী বলে বুঝ দেবো।’
ট্রলারডুবির ঘটনায় সাঁতরে তীরে উঠে আসা দ্বীন ইসলাম বলেন, ‘ট্রলারটি মাঝনদীতে আসার পর হঠাৎ ঢাকা থেকে বরিশালগামী একটি লঞ্চের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। কুয়াশার কারণে দেখা যাচ্ছিল না। ট্রলারটিতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিল। ওইসময় মানুষে চিৎকারে লঞ্চ থেকে লাইফবয়া ফেলা হয়। পরে ঘাটে থাকা অন্য একটি ট্রলার এসে অনেককে উদ্ধার করে। বাকিরা নিখোঁজ রয়েছেন।’
মোবাশ্বির শ্রাবণ/এসআর/জিকেএস