এক কর্মচারীর অসদাচরণকে ঘিরে আইনজীবীরা কর্মবিরতিতে থাকায় ১১ দিন ধরে বন্ধ আছে সিরাজগঞ্জ আদালতের কার্যক্রম। আইনজীবীরা বার কাউন্সিলের হল রুমে অবস্থান করলেও যাচ্ছেন না হাজিরা দেওয়ার কাজে। এছাড়া আদালতের কর্মচারীরাও কাজে আসছেন না। এতে ভোগান্তিতে পোহাতে হচ্ছে বিচার প্রার্থীদের। অনেকে আদালতে এসেও ফিরে যাচ্ছেন।
সোমবার (২৩ জানুয়ারি) আদালতে হাজিরা দিতে কামারখন্দ থেকে আসেন বিচারপ্রার্থী হোসেন আলী। কিন্তু এসে দেখেন এজলাস তালাবদ্ধ। হাজিরার বিষয়ে জানতে কারও সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারেননি। ফলে তাকে আবার বাড়ি ফিরে যেতে হয়।
বেলকুচি থেকে আসা আরেক বিচারপ্রার্থী কামরুল হাসান জানান, ১১ দিন ধরে আদালত বন্ধ রয়েছে। সময় মতো কাজ না হওয়ায় হতাশায় দিনাতিপাত করছি।
আইনজীবী মো. আবুল কালাম অভিযোগ করে বলেন, ১৩ জানুয়ারি আমার চেম্বারে ঢুকে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের স্টেনোগ্রাফার মো. ইউসুফ আলী একটি মামলার বিষয়ে কথা বলে ঘুস দাবি করেন। কিন্তু ওই মামলাটি আর চালাবো না বলে জানালে ইউসুফ আলী আমার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে ইউসুফ আলী ও তার সহযোগীরা এক পর্যায়ে আমাকে মারধর করেন।
অভিযোগের বিষয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের স্টেনোগ্রাফার মো. ইউসুফ আলী বলেন, আইনজীবীদের হামলায় আহত হয়ে আমি ঢাকায় হাসপাতালে ভর্তি আছি। আমি কোনো প্রকার ঘুস দাবি করিনি।
এদিকে ঘটনার পক্ষে বিপক্ষে মামলা করেছে দু’পক্ষই। মামলার পর একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিরাজগঞ্জের নেতা মো. আব্দুল হালিম বলেন, আইনজীবীরা আমাদের সহকর্মীকে রক্তাক্ত করেছে। দোষীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদেরও আন্দোলন চলবে। সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রউফ পান্না বলেন, বিচারপ্রার্থীর কাছ থেকে উৎকোচ নিয়ে কাজ করে না দেওয়ার কারণে বিচারপ্রার্থীরাই ইউসুফ আলীর ওপর হামলা চালিয়েছিল। আইনজীবীরাই সে সময় তাকে রক্ষা করেছে। কিন্তু ইউসুফ আলী উল্টো তাদের নামেই মিথ্যা মামলা করেছে।
সিরাজগঞ্জ আদালতের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হলে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এসজে/এমএস