দেশজুড়ে

‘যার যায় সেই বোঝে’

‘আমরা কী বলবো। যার যায় সেই বোঝে। আমার আপনার কিছুই না। আমি কাজ করি, মাস শেষে বেতন পাই। কারখানা খোলা থাকলে কাজ করবো। বন্ধ থাকলে অন্য কোথাও চলে যাবো। কিন্তু মালিক কোথায় যাবে? তার জীবনের সকল আয় এক আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তার আর কী থাকলো?’

Advertisement

এভাবেই আক্ষেপের সুরে কথাগুলো বলছিলেন জাহিন নিটওয়্যারর্সের শ্রমিক ইব্রাহীম। তার চোখের সামনেই কর্মস্থল আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আর তিনি বাইরে দাঁড়িয়ে শুধু দেখেছেন। দেখা ছাড়া তার আর কোনো উপায়ও ছিল না।

শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর রাত ৯টায় ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতক্ষণে কারখার ভিতরে যা ছিল সব শেষ হয়ে গেছে। অবশিষ্ট ছাই ছাড়া যেন আর কিছুই নেই। কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও পুড়ে গেছে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ।

ইব্রাহিম আরও বলেন, আমি এই কারখায় প্রায় ১০ বছর ধরে চাকরি করি। এখানে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক কাজ করে। আজ থেকে সকলের কর্মসংস্থানই বন্ধ হয়ে গেলো। প্রতিটি ইউনিটে কিছু শ্রমিক তৈরি পোশাক প্যাকেট করে শিপমেন্টের জন্য ৬নং ইউনিটে সরানোর কাজ করছিলো। এখানেই কারখানার সকল সম্পদ জমানো ছিল।

Advertisement

নির্বাহী পরিচালক শফিউদ্দিন ভূইয়া বলেন, আগুন লাগার পরপর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। প্রথমে একটি ইউনিটে আগুন লাগে। এরপর আগুন ২, ৪, ৫ ও ৬নং ইউনিটে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি ইউনিটের উপরের অংশ স্টিল স্ট্রাকচারের। আর কাঠ ও বোর্ড দিয়ে ভেতরের অংশে ডেকোরেশন করা। আমরা মূলত গেঞ্জি, পলো শার্ট, জ্যাকেট, ট্রাউজার এসব তৈরি করি। প্রতিটি ইউনিটের উপরের অংশগুলিতে প্রচুর পরিমাণে তৈরি পোশাক ছিলো। আমাদের প্রতিটি ইউনিটই বিশাল ছিল। আগুনে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, বিকেল সাড়ে চারটায় আগুন লাগার খবর পাই। বেলা পৌনে পাঁচটায় ফায়ার সার্ভিসের প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর একে একে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সোনারগাঁও, বন্দরসহ আশপাশের ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলি এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত আগুন লাগার কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সেইসঙ্গে ক্ষতির পরিমাণও বলা যাচ্ছে না। তদন্তের পর বলা যাবে।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এফএ/এমএস

Advertisement