বিনোদন

স্ত্রীর কষ্ট হচ্ছে, তাই সৃষ্টিকর্তাকে বলতেন তাকে দ্রুত নিয়ে যেতে

‘ডলি আন্টি জৌলুস নিয়ে চলচ্চিত্রে এসেছিলেন। জাভেদ সাহেবকে বিয়ে করে ৪২ বছর ধরে সংসার করছেন। এরমধ্যে শেষ ১৮ বছর জাভেদ সাহেব অসুস্থ। এই সময়টা আন্টি একটা শিশুর মতো করে জাভেদ সাহেবের সেবা করেছেন। আন্টি বলছিলেন, “আমার যেন কষ্ট না হয়, এজন্য জাভেদ সাহেব সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করতেন, যেন দ্রুত তাকে নিয়ে যায়।’ এফডিসিতে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বললেন ওমর সানি। তিনি এও বললেন, ‘স্ত্রীর কষ্ট হচ্ছে, সৃষ্টিকর্তাকে তাই বলতেন দ্রুত তাকে নিয়ে যেতে, ভাবা যায়?’

অভিনেতা জাভেদের মরদেহ আসছে এফডিসিতে। শেষবারের মতো কর্মক্ষেত্রে আসছেন একজন নায়ক। মরদেহবাহী গাড়ি পৌঁছানোর আগেই সেখানে পৌঁছে গেছেন অভিনেতা ওমর সানি। জাগো নিউজের কাছে এ সময় স্মৃতিচারণ করছিলেন এই অভিনেতা। বলছিলেন, ‘তিনি আমার একটি সিনেমায় কোরিওগ্রাফি করে দিয়েছিলেন। তাকে একদিন “ভাই” সম্বোধন করলে আমাকে বললেন “না, তোমাকে আমি রিকোয়েস্ট করবো, তুমি আমাকে বাবা বলবা।” এরপর থেকে তার সঙ্গে দেখা হলে বাবা সম্বোধন করতাম।’

শেষদিকে এই বাবার সঙ্গে তেমন যোগাযোগ রাখা হয়নি বলে আক্ষেপ করলেন ওমর সানি। বললেন, ‘গত ৫-৬ বছর খুব একটা যোগাযোগ ছিল না। তবে খোঁজ-খবর নিতাম।’ বললেন আরও এক আক্ষেপের কথাও। জাতীয় সম্মাননা পাননি জাভেদ! তিনি বলেন, ‘জাভেদ সাহেব আমাদের আইকন ছিলেন। আমার মনে হয়, জীবদ্দশায় তাকে লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট দেওয়া উচিত ছিলো। এজন্য আমার আক্ষেপ হয়।’

আরও পড়ুন:একটা সময় কেউ খোঁজ নিতো না জাভেদের, সবাই চাইতো ভোটশেষবার এফডিসিতে নায়ক জাভেদ, শ্রদ্ধা নায়ক-খলনায়কদের (ছবি)

আজ (২১ জানুয়ারি) বুধবার বিকেলে শেষবারের মতো এফডিসিতে নেওয়া হয় জাভেদের মরদেহ। তাকে শেষশ্রদ্ধা জানান তার সহকর্মীরা। ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন করে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। সেখানেই প্রথম জানাজার পর তার মরদেহ উত্তরায় ১২ নম্বর সেক্টরে তার বাসার এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজার পর উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

গতকাল বুধবার সকালে তাকে অচেতন অবস্থায় পান নিজ ঘরে পান তাকে দেখভাল করা দুই নার্স। শরীর শীতল অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

এমআই/আরএমডি