ফরিদপুরের বোয়ালমারী থেকে মাগুরায় অসুস্থ শাশুড়িকে দেখতে বের হয়ে রিপন বিশ্বাস নামের এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। রোববার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।
রিপনের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি সাতৈর এলানখালী শেখ হাসিনা সেতুর ওপর থেকে রাতে উদ্ধার করা হয়। তবে ঘটনার একদিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো হদিস মেলেনি।
নিখোঁজ রিপন বিশ্বাস মাগুরা সদর উপজেলার আঠারোখাদা ইউনিয়নের কৃষ্ণবিলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। তার শ্বশুরবাড়ি মাগুরার সদর উপজেলার আলমখালী গ্রামে।
পরিবার সূত্র জানায়, বোয়ালমারী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কামারগ্রামে স্কুলশিক্ষক রনজিৎ কুমার দাসের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন রিপন বিশ্বাস। রোববার সন্ধ্যার দিকে মাগুরায় অসুস্থ শাশুড়িকে দেখতে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন। রাত ৯টার দিকে বোয়ালমারীর উপজেলার সীমান্তবর্তী মহম্মদপুরের শেখ হাসিনা সেতুর ওপর থেকে রিপনের মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়। মোটরসাইকেলের পাশে সেতুর ওপর তার হেলমেটটিও পড়েছিল। এ সময় মোটরসাইকেলের সঙ্গে থাকা রিপনের ব্যবহৃত ব্যাগটিও উদ্ধার করা হয়। কিন্তু রিপনের কোনো খোঁজ নেই।
এ ব্যাপারে বাড়ির মালিক স্কুলশিক্ষক রনজিৎ কুমার দাস জাগো নিউজকে বলেন, ‘সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে আমার ভাড়া বাসা থেকে বের হতে দেখা গেছে। এরপর কী ঘটেছে আমার জানা নেই।’
রিপনের পরিচিত কয়েকজন জানান, রিপন বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন। এদের মধ্যে ইউরো ফার্মাসিউটিক্যালসের বোয়ালমারীতে কর্মরত ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধি সিদ্দিকুর রহমানের কাছ থেকে ২০ হাজার, ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনের কাছ থেকে ১৫ হাজার, শেখর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের তোতা শিকদারের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ধার নেন।
রিপনের স্ত্রী শিপ্রা বিশ্বাস জাগো নিউজকে বলেন, নিখোঁজের পর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও রিপনের কোনো খোঁজ মেলেনি। এখন মধুমতী নদীতে তল্লাশি শুরু করেছে ডুবুরি দল।
এ ব্যাপারে মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরউদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে রাতে শেখ হাসিনা সেতুর ওপর থেকে মোটরসাইকেল, হেলমেট, ব্যাগ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। নিখোঁজ রিপনের স্ত্রী শিপ্রা বিশ্বাস রাতেই থানায় এসে নিশ্চিত করেছেন মোটরসাইকেলটি তার স্বামীর। তবে এখন পর্যন্ত আমরা রিপনের কোনো খোঁজ পাইনি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
এন কে বি নয়ন/এসআর/এএসএম