ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে নারায়ণগঞ্জের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বলা চলে এই নারায়ণগঞ্জ থেকেই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিটি জোরালো হয়ে ওঠে। ঢাকা লাগোয়া এলাকা হিসেবে সেসময়ের দিনগুলো আন্দোলনে উত্তাল ছিল নারায়ণগঞ্জ। বর্তমানে এই নারায়ণগঞ্জেই যেন ভাষাসৈনিকরা অবহেলিত।
ভাষাসৈনিকের নামে নারায়ণগঞ্জ শহরে নেই কোনো স্থাপনা। দুই একটি সড়কের নামকরণ করা হলেও সেগুলোও যেন ভুলে যেতে বসেছে নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দারা। শুধু নামেই রয়েছে ভাষাসৈনিক নেই কোনো ফলক। কোনো কোনো ঠিকানায় ভাষাসৈনিক নামটিও বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া এলাকার পাশেই এক ভাষাসৈনিকের নামে সড়ক রয়েছে। কিন্তু সাড়ে তিন মিটার সড়কটির কোথাও কোনো ফলক নেই। সেইসঙ্গে রাস্তার শুরুতেও কোনো স্থাপনা নেই।
সরেজমিনে গিয়ে ভাষাসৈনিক সড়কটির কোথাও কোনো ফলকের দেখা মেলেনি। শুধু সড়কের দুই ধারে থাকা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় ভাষাসৈনিক সড়ক নামটি ব্যবহার করা হয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান সেই নামটিও ব্যবহার করেনি। তারা ঠিকানার জায়গায় শুধু বালুরমাঠ এলাকা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এ বিষয়ে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বী জাগো নিউজকে বলেন, ভাষাসৈনিক যারা ছিলেন তাদের অধিকাংশই জীবিত নেই। দু-একজন যারা আছেন তারা বরাবরই অবহেলিত। ২০১০ সালে কয়েকজন ভাষাসৈনিকের নামে কয়েকটা সড়কের নামকরণ করা হয়েছিল। কিন্তু কোনোটাতেই স্থাপনা নেই। শুধু নামফলক করা হয়েছিল তৎকালীন পৌরসভা থেকে।
তিনি বলেন, প্রেস ক্লাবের সামনে বালুর মাঠের পেছনের রাস্তাটাকে ভাষাসৈনিক সড়ক বলা হয়ে থাকে। বর্তমানে সেখানে নামফলক আছে বলে আমি খেয়াল করিনি। নামফলক করার দায়িত্ব আসলে নগরের মধ্যে সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার ওপরই পড়ে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল আমিন জাগো নিউজকে বলেন, ভাষাসৈনিক সড়কটিতে নামফলক আছে কিনা সেটা সরেজমিনে না গেলে বলতে পারবো না। আমরা খবর নিয়ে দেখবো যদি না থাকে তাহলে নতুন করে আবার নামফলক স্থাপন করবো। ভাষাসৈনিকদের স্থাপনার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা এলে আমরা অবশ্যই কাজ করবো।
এফএ/এএসএম