আল্লাহ তাআলা ৫ জন নবি-রাসুলের নাম তাদের জন্মের আগেই রেখেছিলেন। কোরআনের বর্ণনায় তা ওঠে এসেছে। এসব নবি-রাসুলের আগমনের আগেই আল্লাহ তাআলা তাদের আগে আগমনকারী নবি-রাসুলদের মাধ্যমে সুসংবাদ দিয়েছেন। কোরআনের বর্ণনায় তা সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। সেসব নবি-রাসুল কারা; যাদের নাম রাখার ঘোষণা এসেছে কোরআনে?
وَ اِذۡ قَالَ عِیۡسَی ابۡنُ مَرۡیَمَ یٰبَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ اِنِّیۡ رَسُوۡلُ اللّٰهِ اِلَیۡکُمۡ مُّصَدِّقًا لِّمَا بَیۡنَ یَدَیَّ مِنَ التَّوۡرٰىۃِ وَ مُبَشِّرًۢا بِرَسُوۡلٍ یَّاۡتِیۡ مِنۡۢ بَعۡدِی اسۡمُهٗۤ اَحۡمَدُ ؕ فَلَمَّا جَآءَهُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ قَالُوۡا هٰذَا سِحۡرٌ مُّبِیۡنٌ আর যখন মারইয়াম পুত্র ঈসা বলেছিল, ‘হে বনি ইসরাইল! নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর রাসুল। আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের আমি সত্যায়নকারী এবং একজন রাসুলের সুসংবাদদাতা; যিনি আমার পরে আসবেন। যার নাম ‘আহমদ’। এরপর সে যখন সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে আগমন করলো, তখন তারা বলল, ‘এটাতো স্পষ্ট জাদু’।’ (সুরা আস-সফ : আয়াত ৬)
২. হজরত ইসহাক আলাইহিস সালামوَ بَشَّرۡنٰهُ بِاِسۡحٰقَ نَبِیًّا مِّنَ الصّٰلِحِیۡنَ ‘আর আমরা তাকে (ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে) সুসংবাদ দিয়েছিলাম ইসহাকের, তিনি ছিলেন একজন নবি, সৎকর্ম পরায়ণদের অন্যতম।’ (সুরা আস-সাফফাত : আয়াত ১১২)
৩. হজরত ইয়াকুব আলাইহিস সালামوَ امۡرَاَتُهٗ قَآئِمَۃٌ فَضَحِکَتۡ فَبَشَّرۡنٰهَا بِاِسۡحٰقَ ۙ وَ مِنۡ وَّرَآءِ اِسۡحٰقَ یَعۡقُوۡبَ আর তাঁর (ইবরাহিমের) স্ত্রী দাঁড়িয়েছিল, সে হেসে ফেলল। তখন আমি তাকে (ইবরাহিমের স্ত্রীকে) ইসহাকের আর ইসহাকের পর ইয়াকুবের সুসংবাদ দিলাম।’ (সুরা হুদ : আয়াত ৭১)
یٰزَکَرِیَّاۤ اِنَّا نُبَشِّرُکَ بِغُلٰمِۣ اسۡمُهٗ یَحۡیٰی ۙ لَمۡ نَجۡعَلۡ لَّهٗ مِنۡ قَبۡلُ سَمِیًّا ‘(আল্লাহ বললেন) ‘হে যাকারিয়া! আমি তোমাকে একটি পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি; তার নাম- ইয়াহইয়া। ইতিপূর্বে কাউকে আমি এ নাম দেইনি।’ (সুরা মারইয়াম : আয়াত ৭)
৫. হজরত ঈসা আলাইহিস সালামের আগমনের সুসংবাদاِذۡ قَالَتِ الۡمَلٰٓئِکَۃُ یٰمَرۡیَمُ اِنَّ اللّٰهَ یُبَشِّرُکِ بِکَلِمَۃٍ مِّنۡهُ ٭ۖ اسۡمُهُ الۡمَسِیۡحُ عِیۡسَی ابۡنُ مَرۡیَمَ وَجِیۡهًا فِی الدُّنۡیَا وَ الۡاٰخِرَۃِ وَ مِنَ الۡمُقَرَّبِیۡنَ ‘স্মরণ করুন, যখন ফেরেশতাগণ বললেন, ‘হে মারইয়াম! নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনাকে নিজের পক্ষ থেকে একটি কালেমার (দ্বারা সৃষ্ট সন্তানের) সুসংবাদ দিচ্ছেন। যার নাম হবে মসিহ, মারইয়াম তনয় ঈসা। তিনি হবেন দুনিয়া ও পরকালে সম্মানিত এবং সান্নিধ্যপ্রাপ্তগণের অন্যতম হবেন।’ (সুরা আল-ইমরান : ৪৫)
মুহাম্মাদ (সা.) সম্পর্কে ঈসা (আ.)-এর সুসংবাদকোরআনে উল্লেখিত এ পাঁচ নবি-রাসুলের জন্মের আগেই মহান আল্লাহ তাদের নামকরণ করেছিলেন। দুনিয়াতে তাদের নাম কী হবে তা সুস্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিলেন। আর প্রত্যেকটি নামই ছিল অভিনব ও ব্যতিক্রম। এর সবই ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য সত্যতার নিদর্শন।
এমএমএস/এমএস