দেশজুড়ে

ভালোবাসা দিবসে সুবাস ছড়াবে শহিদুলের ফুল

ভালোবাসা দিবসের প্রধান উপহার ফুল। আর সে ফুলের মধ্যে সবার পছন্দ গোলাপ। তাও আবার লাল গোলাপ। এবারের ভালোবাসা দিবসে সুবাস ছড়াবে সিরাজগঞ্জের শহিদুলের ফুল।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নরে একডালা গ্রামের ফুলচাষি দুই ভাই শহিদুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম।

তারা জানান, জেলায় তারাই প্রথম ফুলচাষ শুরু করেন। বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিশেষ কয়েকটা দিবস থাকায় ফুলের চাহিদা থাকে অনেক বেশি। তাই ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাস দিবস উপলক্ষে সকল গাছের ফুল কেটে প্রস্তুত করেছেন তারা। দেশি-বিদেশি লাল গোলাপ, হলুদ ও সাদা গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাসসহ নানান ফুলের সুবাস ছড়াবে ভালোবাসা দিবসে।

ফুলচাষি শহিদুল ইসলাম বলেন, ১০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ফুলের আবাদ করেছি। ফুলের কোয়ালিটি ও ফলন ভালো হয়েছে। দামও চড়া পাচ্ছি। লাল গোলাপ প্রতি পিস পাইকারি ১৫-১৮ টাকা, হলুদ গোলাপ ১০-১২ টাকা, গাঁদা ৫-৬ টাকা ও রজনীগন্ধা ১০-১২ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এ বছর সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সিরাজগঞ্জ-বগুড়াসহ বিভিন্ন স্থানে তারা ফুল বিক্রি করে থাকেন। আবার কেউ কেউ বাগান থেকে ফুল পাইকারি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নরে একডালা গ্রামের ফুলচাষি দুই ভাই শহিদুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম কয়েক বছর আগে ৩ বিঘা জমিতে গোলাপ, রজনীগন্ধা ও গাঁদা ফুলের চাষ শুরু করেন। পরবর্তীতে প্রায় ১০ বিঘা জমিতে দেশি-বিদেশি ফুলের চাষ করেন।

বগুড়া থেকে আসা পাইকারি ফুল ব্যবসায়ী মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, আমার ফুলের দোকান বগুড়া শহরে। চার বছর ধরে এখান থেকেই ফুল সংগ্রহ করি। এখানকার ফুলের কোয়ালিটি খুব ভালো, চাহিদাও বেশি। তাই ভালোবাসা দিবসের জন্য ফুলের বায়না করে গেলাম।

সিরাজগঞ্জ এস এস রোডের ফুলের দোকানদার রতন ঘোষ, রাজ কুমার শাহ জানান, এবার ‘রোজ ডে’তে ফুলের চাহিদা খুব বেশি ছিল। আবার ভালোবাসা দিবস আসন্ন। ভালোবাসা দিবসে ফুলের চাহিদা বাড়ে চারগুন। এক পিস গোলাপের মূল্য ৩০-৪০ টাকা। ফুলের দাম এবার অনেক বেশি। আবার সঠিক সময়ে ফুলচাষিরা ফুল দিতে পারে না। ফুল আমদানি অনেক কমে গেছে। ভালোবাসা দিবস নিয়ে চিন্তায় আছি।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রোস্তম আলী জানান, সিরাজগঞ্জে অতীতে কোনো ফুলচাষি ছিলোনা। দুজন ফুলচাষি নিজ উদ্যোগে চাষ শুরু করেন। এরপর থেকে আরো কয়েকজন চাষ শুরু করলে কৃষি বিভাগের নজরে আসে। আমরা ইতোমধ্যে বাগান পরিদর্শনের মাধ্যমে অন্যান্য কৃষকদের ফুল চাষে আগ্রহী করতে চেষ্টা করছি।

এফএ/এমএস