কেউ পরেছেন হলুদ শাড়ি আবার কেউবা হলুদ পাঞ্জাবি। কোনো কোনো মেয়ের মাথায় বেলি কিংবা গোলাপের শোভা। প্রথম দেখাতে মনে হলো সবাই বুঝি ফাগুন হাওয়ায় ভালোবাসায় সিক্ত হতে বেরিয়েছেন। কিন্তু কিছু দূর যেতেই দেখা গেলো কিছু ছেলেমেয়ের জটলা।
ছোটো একটি মঞ্চ। সেখানে নববধূর বেশে বসে আছেন এক ছাত্রী। তাকে ঘিরে বসে আছেন সহপাঠীরা। জিজ্ঞাসা করতেই জানা গেলো আজ রিয়ার ‘গায়েহলুদ’।
ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া ইয়াসমিন রিয়া। গায়েহলুদের জন্য পহেলা ফাল্গুনকেই বেছে নিয়েছেন রিয়ার সহপাঠীরা।
সহপাঠীদের ভাষ্যমতে, কিছুদিন পরেই রিয়ার বিয়ে। সংসার শুরু করলে হয়তো আগের মতো সময় দিতে পারবেন না বন্ধুদের। সবাই হয়তো বিয়েতে উপস্থিত হতে পারবেন না। তাই পরিকল্পনা করে আজ বন্ধুত্বের ভালোবাসায় ব্যতিক্রমী এ আয়োজন করা হয়েছে।
ক্যাম্পাসে গায়েহলুদ হলেও হলুদ অনুষ্ঠানের কোনো কমতি ছিল না। কেউ এনেছেন পায়েস, কেউ হরেক রকমের মিষ্টি আবার কেউবা এনেছেন নানা রকমের পিঠা ও কারুকার্যখচিত ফলমূল।
রিয়ার বান্ধবী শাপলা খাতুন জাগো নিউজকে বলেন, ‘রিয়া আমাদের অনেক ভালো একজন বান্ধবী। আজকের এই ভালোবাসার দিনটি স্মরণীয় করে রাখতেই আমাদের এই আয়োজন।’
গায়েহলুদের পিঁড়িতে বসে সুমাইয়া ইয়াসমিন রিয়া বলেন, ‘আমি সত্যিই আবেগাপ্লুত। বন্ধুরা এমন আয়োজন করবে আমি ভাবতেই পারিনি।’
এদিকে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসের ডায়না চত্বর এলাকায় ভ্যানচালক, দোকানদার ও শ্রমজীবীদের মধ্যে ফুল বিতরণ করা হয়েছে। বাংলা বিভাগের জি কে সাদিক, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের আজিজুল হক পিয়াস, সুমনসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী এসব ফুল বিতরণ করেন।
এসআর/এএসএম