কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবপুর গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী আনিসুর রহমানের (২৫) পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য তাকে একটি কম্পিউটার দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের স্ত্রী ও পুনাকের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী জীশান মীর্জা।
মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুনাকের উদ্যোগে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার কম্পিউটার তুলে দেওয়া হয়।
আনিসের উচ্চতা ৩ ফুট ৬ ইঞ্চি। তার বোন আমেনার (১৯) উচ্চতা ৪ ফুট ৪ ইঞ্চি। তিনিও শারীরিক প্রতিবন্ধী। জন্মের পাঁচ বছর বয়স থেকেই অজানা রোগে আনিসের দুই পা বাঁকা হয়ে যায়। থেমে যায় শরীরের স্বাভাবিক আকৃতি। এরপর থেকে ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটেন তিনি।
আনিসের বাবা মো. সিদ্দিক মিয়া ফেরি করে ঝালমুড়ি বিক্রি করে সংসার চালান। মা ফুলেছা বেগম অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। অভাবের সংসারে খেয়ে না খেয়ে তাদের দিন কাটে। ঠিকমতো ওষুধও মেলে না।
তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দুই ভাইবোনকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। আনিস শহরের গুরুদয়াল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে দর্শন বিষয়ে মাস্টার্স করেছেন। বোন আমেনা সরকারি মহিলা কলেজে ডিগ্রি প্রথমবর্ষে পড়ছেন।
জানা গেছে, একটি চাকরির জন্য দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকুতি জানিয়ে আসছিলেন আনিস। বছরের পর বছর ঘুরছিলেন বিভিন্ন জনের কাছে। তবে কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। অবশেষে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ালো পুনাক। তার হাতে একটি কম্পিউটার তুলে দেওয়া হয়েছে। যাতে তিনি ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করতে পারেন। কম্পিউটার প্রদান অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ পুনাকের সভানেত্রী মাহফুজা নাজনীন দিষার চৌধুরীর সভাপতিত্বে পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মুস্তাক সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) অনির্বাণ চৌধুরী, জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির আহ্বায়ক লেলিন রায়হান শুভ্র শাহীনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কম্পিউটার পাওয়ার পর অনুভূতি প্রকাশ করে প্রতিবন্ধী আনিসুর রহমান বলেন, ‘একটি চাকরির জন্য কয়েক বছর ধরে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারবার আকুতি জানিয়েছি। কিন্তু কোনো সাড়া পাচ্ছিলাম না। তাই হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। পুনাকের উদ্যোগে একটা কাজের সুযোগ হওয়ায় পরিবারের জন্য সামান্য কিছু করার সুযোগ পাবো। পাশাপাশি কম্পিউটারে ফ্রিল্যান্সিং করে সামান্য কিছু করার সুযোগ পাবো। এজন্য আমি পুনাক ও কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার স্যারের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।’
এদিকে প্রতিবন্ধী আনিসুর রহমানের জন্য গাইটাল আন্তঃজেলা বাসস্ট্যান্ড অফিসে একটি চাকরির ব্যবস্থা করেছে কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।
পরিবহন মালিক সমিতির আহ্বায়ক লেলিন রায়হান শুভ্র শাহীন বলেন, প্রতিবন্ধী আনিসের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা আনন্দিত। ভবিষ্যতে তার পরিবারের জন্য আরও কিছু করার চেষ্টা করবো।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, ‘প্রতিবন্ধী আনিসুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পরিবারের জন্য একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে বারবার আকুতি জানাচ্ছিলেন। বিষয়টি আইজিপি স্যারের নজরে এলে তিনি ছেলেটির জন্য কিছু একটা করতে পুনাক ও জেলা পুলিশকে বলেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে পুনাকের কেন্দ্রীয় সভানেত্রীর উদ্যোগে আনিসকে একটি কম্পিউটার দেওয়া হয়। আমাদের অনুরোধে মালিক সমিতি তার একটি চাকরির ব্যবস্থা করে। অসহায় পরিবারটির জন্য কিছু একটা করতে পেরে পুলিশ বিভাগ গর্বিত।’
নূর মোহাম্মদ/এসআর/এমএস