দেশজুড়ে

সাত বছর পর সম্মেলন, পাবনায় উৎসব আমেজে আ’লীগ নেতারা

সাত বছর ২ মাস পর পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হতে যাচ্ছে ১৯ ফেব্রুয়ারি। এতে নতুন সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচন করা হবে। দুটি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিগত কমিটির বেশিরভাগ সিনিয়র ও বর্ষীয়ান নেতারা। এই সম্মেলনে সভাপতি ও সম্পাদক পদে নবীন-প্রবীণ মিলিয়ে প্রায় দুই ডজন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ২০ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় তৎকালীন সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরীফ ডিলুকে সভাপতি ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্সকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, গতবারের মতো এবারও শহরের পুলিশ লাইনস্ মাঠে সম্মেলন হবে। প্রথম পর্যায়ে শুধু সভাপতি ও সম্পাদক নির্বাচন করা হবে। পরবর্তী সময়ে অন্য পদগুলো নির্ধারণ হবে। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন দলের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. আব্দুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন পাবনা জেলা কমিটির সিনিয়র সহ- সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল রহিম লাল।

এদিকে সভাপতি পদে থাকা সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু মারা যাওয়ায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও দলের পাবনা জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল রহিম লাল ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সভাপতি পদে এবার তিনিসহ, পাবনা জেলা কমিটির সহ-সভাপতি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট শাসসুল হক টুকু, সাবেক সংসদ সদস্য দলের সহ-সভাপতি খন্দকার আজিজুল হক আরজু, দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস আলী বিশ্বাস, পাবনা ঈশ্বরদী-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জান বিশ্বাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা আসম আব্দুর রহিম পাকন, জেলা কৃষক লীগের সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা তৌফিকুল আলম তৌফিকসহ বেশ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে।

এছাড়া সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন পাবনা সদর-৫ আসনের সংসদ সদস্য বর্তমান জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স, ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ উপকমিটির সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম মানিক ও কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আলিম, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট বেলায়েত আলী বিল্লু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা সোহেল হাসান শাহীন। এদিকে সম্মেলনকে ঘিরে পাবনা জেলাজুড়ে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসব আমেজ চলছে। গোটা শহর পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে। শুভ কামনার পোস্টারে শহরের ভবনগুলোর দেয়াল ফাঁকা নেই। নির্মাণ করা হচ্ছে অনেক তোরণ। রাতে অনেক ভবনে আলোকসজ্জাও করা হচ্ছে।

দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা রেজাউল রহিম লাল বলেন, একটি সফল ও সুন্দর সম্মেলনের জন্য তারা শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। সম্মেলনের মাধ্যমে জেলায় দল আরো গতিশীল হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তিনি জানান, করোনার কারণে জনসমাগম কিছুটা কমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সম্মেলনের বিষয়ে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, জেলা কমিটির সাবেক সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু বলেন, দেশের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার জন্য সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ হয়েছে। সব নেতাকর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে সম্মেলনে অসার জন্য বলা হয়েছে। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে সম্মেলনে আসবেন বলে তিনি আশা করেন।

এবারের সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা মাজহারুল ইসলাম মানিক বলেন, হাউব্রিডদের কারণে আজ দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা অনেকাংশে উপেক্ষিত। আগামী নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিতের জন্য এবারের সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রাসেল আলী মাসুদ ওরফে ভিপি মাসুদ বলেন, এবারের সম্মেলনের মাধ্যমে দল আরো সংগঠিত ও সুদৃঢ় হবে। এতে আগামী জাতীয় নির্বাচনে পাবনার ৫টি সংসদীয় আসনেই আওয়মী লীগ প্রার্থীরা জিতবেন বলে তিনি আশা করেন।

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আব্দুল হান্নান জানান, সম্মেলন স্থলকে সুন্দর স্বাস্থ্যসম্মত করতে তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী গত ১০ দিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। মঞ্চে তিন ভাগে আসন বিন্যাস করা হবে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এক অংশে, জেলার এমপিগণ ও জেলার নেতৃবৃন্দ এক অংশে আর বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের সভাপতি-সেক্রেটারির এক অংশে আসন গ্রহণের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া প্যান্ডেলে প্রায় ১০ হাজার ডেলিগেট ও আমন্ত্রিত অতিথিরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসতে পারবেন।

দলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও পাবনা- ৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স বলেন, তৃণমূলে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে প্রতিটি জেলায় সম্মেলন শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পাবনা জেলার সম্মেলন হতে যাচ্ছে। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তাই এই নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারের সম্মেলনের গুরুত্ব একটু বেশি।

আমিন ইসলাম জুয়েল/এফএ/জিকেএস