পাকিস্তান সুপার লিগে করাচি কিংস দল গঠন করতে গিয়ে সবার আগে বাছাই করে নিয়েছিল বাবর আজমকে। নেতৃত্বের ভারও তুলে দিয়েছে তার কাঁধে। জাতীয় দলের হয়ে যিনি নিজে দুর্দান্ত খেলছেন, দলকে এনে দিচ্ছেন একের পর এক সাফল্য, তার কাঁধে নেতৃত্বের ভার তুলে দিয়ে যে কোনো ফ্রাঞ্চাইজি নিশ্চিন্তে থাকার চিন্তা করতে পারে।
করাচি কিংস ম্যানেজমেন্টও সে ধরনের চিন্তা করেছিল হয়তো। কিন্তু সব সময় যে চিন্তা আর বাস্তবতার মিল থাকে তেমনটা নয়। করাচি কিংসের ক্ষেত্রেও ঘটলো সে ধরনের ঘটনা। বাবর আজমকে দলে নিয়ে এখন যারপরনাই হতাশায় ভুগছে করাচি কিংস। কারণ, চলতি পিএসএলে যে এখনও পর্যন্ত একটি জয়েরও দেখা পায়নি তারা! টানা হারতে হারতে নাভিঃশ্বাস উঠে গেছে বাবর আজমদের। শঙ্কা দেখা দিয়েছে, জয়হীনভাবেই হয়তো এবারের পিএসএল শেষ করবে তারা।
শুধু তাই নয়, টানা পরাজয়ের রেকর্ডও গড়তে যাচ্ছে বাবর আজমরা। এবারের পিএসএলে এখনও পর্যন্ত ৮টি ম্যাচ খেলেছে করাচি কিংস। সবগুলোতেই পরাজয়। সর্বশেষ ম্যাচে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের বিপক্ষে প্রায় জিতে যাচ্ছিল ম্যাচ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হারতে হয়েছে ১ রানের ব্যবধানে।
গত বছর পিএসএলের এলিমিনেটর রাউন্ডে পেশোয়ার জালমির কাছে হেরেছিল করাচি কিংস। সে হিসেবে এ নিয়ে টানা ৯টি ম্যাচ হেরে গেলো তারা। টানা ১০টি ম্যাচ পরাজয়ের কোটা পূর্ণ করতে আর মাত্র একটি ম্যাচ প্রয়োজন। এরপরই রেকর্ডের পাতায় নাম লিখে ফেলবে বাবর আজমের দল।
অথচ বাবর আজমদের দল কিন্তু এতটা খারাপ নয়। শারজিল খান, জো ক্লার্ক, কাশিম আকরাম, রোহাইল নাজির, মোহাম্মদ নবি, ইমাদ ওয়াসিম, ক্রিস জর্ডান, মোহাম্মদ আমিরের মত ক্রিকেটাররা রয়েছেন। এদের নিয়েও জয়ের নাগাল পেলেন না বাবর আজমরা।
ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে টানা পরাজয়ের রেকর্ডে অবশ্য এখনও করাচি কিংস অনেক পেছনে রয়েছে।
সিডনি থান্ডার, ১৯ ম্যাচসবচেয়ে বেশি টানা ১৯টি ম্যাচে পরাজয় বরণ করেছে বিগ ব্যাশ লিগের দল সিডনি থান্ডার। ২০১১-১২ মৌসুম থেকে শুরু করে ২০১৩-১৪, টানা তিন মৌসুমে এতগুলো ম্যাচ পরাজিত হয়েছে সিডনি থান্ডার। ২০১২-১৩ মৌসুমে তো আট ম্যাচের প্রতিটিতেই হেরেছে তারা।
একমাত্র দল যারা, কোনো এক মৌসুমে কোনো ম্যাচই জিততে পারেনি। প্রথম দুই মৌসুমে তো ক্রিস গেইল, মার্টিন গাপটিলদের মত তারকাও ছিল দলে। পরের মৌসুমে তিলকারত্নে দিলশান, ইয়ন মরগ্যান এবং অজন্তা মেন্ডিসরা ছিল বিদেশি হিসেবে। কিন্তু টানা পরাজয়ের রেকর্ড কমাতে পারেনি তারা।
সেন্ট লুসিয়া জৌকস/স্টার্রস, ১৪ ম্যাচক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ তথা সিপিএলে টানা ১৪ ম্যাচ পরাজয়ের রেকর্ড রয়েছে সেন্ট লুসিয়া জৌকস ২০১৬ সালে সর্বশেষ এলিমিনেটরে তারা হেরেছিল ত্রিনবাগো নাইটরাইডার্সের কাছে। এরপরবর্তী জয়ের দেখা পেতে তাদেরকে অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে ২ বছর।
পুনে ওয়ারিয়র্স, ১১ ম্যাচইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ তথা আইপিএলে ২০১২ এবং ২০১৩ মৌসুমে টানা ১১টি ম্যাচ পরাজয়ের রেকর্ড গড়েছে পুনে ওয়ারিয়র্স। টানা তিন বছর লেগেছিল প্রথম জয়ের দেখা পেতে। আইপিএলে যে কয়দিন খেলেছিল এর মধ্যে তাদের জয়ের পরিমাণ কেবল ১২টি, ৩৩টিতেই হেরেছে তারা।
দিল্লি ডেয়ার ডেভিলস, ১১ ম্যাচপুনে ওয়ারিয়র্সের মত টানা ১১ ম্যাচ পরাজয়ের রেকর্ড সৃষ্টি করেছিল দিল্লি ডেয়ার ডেভিলসও। এখন যে দলটির নাম দিল্লি ক্যাপিটালস। ২০১৪ সাল থেকে ২০১৫ - এই এক বছরে টানা ১১টি ম্যাচ জিততে পারেনি দিল্লির ফ্রাঞ্জাইজিটি।
অ্যান্টিগা হকসবিল, ১০ ম্যাচক্যারিয়ান প্রিমিয়ার (সিপিএল) আরেক দল টানা পরাজয়ের রেকর্ড গড়েছে। তারা হলো অ্যান্টিগা হকসবিল। ২০১৩ এবং ২০১৪ এই দুই মৌসুমে ১৬ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৩টিতে জিতেছিল তারা।
আইএইচএস/এএসএম