তুরস্ক সীমান্ত পথে গ্রিসে যাওয়ার সময় তুষারপাতে আমিন উল্লাহ সুমন (২৬) নামে সোনাগাজীর এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহতের ভাই সাইফুল ইসলাম। এর আগে ৩১ জানুয়ারি সীমান্ত হয়ে গ্রিসের পথে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন সুমন।
সুমন ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের চরশাহাভিকারী গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি ৬ মাস আগে জীবিকার জন্য ওমানে পাড়ি জমান। সেখান থেকে তুরস্ক সীমান্ত পথে গ্রিসে যাওয়ার সময় তুষার বৃষ্টি ও অতিরিক্ত শীতে তার মৃত্যু হয়।
নিহত সুমনের ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, তিন লাখ টাকা দালালকে দিয়ে ৩১ জানুয়ারি তার ভাই সুমনসহ ২০ জনের একটি দল অবৈধভাবে তুরস্ক হয়ে গ্রিসের দিকে যাত্রা করেন। যাত্রার পর থেকে পরিবার ও স্বজনরা তার কোনো হদিস পাচ্ছিলো না।
সোমবার স্থানীয় একটি সূত্রে খবর পেয়ে, চরচান্দিয়া ইউনিয়নের পূর্ববড়ধলী গ্রামের আব্দুর রহমান ইস্তাম্বুলের একটি হাসপাতালে গিয়ে সুমনের মরদেহ শনাক্ত করেন।
সাইফুল আরও বলেন, অবৈধভাবে প্রবেশের দায়ে গ্রিস সীমান্ত থেকে পুলিশ তাদের ধরে দুইদিন পর্যন্ত আটক রাখে। পরে তাদের তুরস্কে পাঠিয়ে দেয়। ফেরার পথে শীত ও তুষার বৃষ্টিতে সুমনসহ আরও কয়েকজন আহত হলে তাদের ইস্তাম্বুলের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়ে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সুমন।
সুমনের বড় বোন নাসিমা আক্তার বলেন, ৬ মাস আগে ওমান যান সুমন। সেখান থেকে গ্রিসে যাওয়ার জন্য কুয়েত পৌঁছান। সেখানে সিলেটের হবিগঞ্জের এক দালালকে টাকা দিয়ে অবৈধ পথে গ্রিসে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করেন। চতুর্থবারের চেষ্টায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আলমগীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সুমনের মরদেহ বর্তমানে ইস্তাম্বুলে হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। তার মরদেহ ফেরত আনতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
নুর উল্লাহ কায়সার/জেডএইচ/এএসএম