পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) রেজিস্ট্রার অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম রোস্তম আলীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও অভিযোগ তুলে গত কয়েকদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তারা ১৭ দফা দাবি তুলে আন্দোলন করে আসছেন। তাদের দাবি পূরণ না হওয়ায় শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে তারা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।
কর্মকর্তারা বলেছেন, ভিসি কাউকে কিছু না বলে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. বিজন কুমার ব্রহ্ম জানিয়েছেন, ভিসি দাপ্তরিক কাজে ঢাকা গেছেন।
জানা গেছে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সভা ছিল। সে বৈঠকে বোর্ড সদস্যদের তোপের মুখে পড়েন ভিসি। উপাচার্যের বাড়ি ভাড়া ফাঁকি দেওয়া, বিধিবহির্ভূতভাবে গাড়ি ব্যবহার করা, নিয়োগে অনিয়ম, শিক্ষকদের পদোন্নতি আটকে রাখাসহ নানা হয়রানি করা, প্রকল্পের কাজে অনিয়ম ও কমিশন নেওয়াসহ নানা অভিযোগ তোলেন সদস্যরা। তার বিরুদ্ধে ভাতিজি-ভাগ্নেসহ স্বজনদের নিয়োগ দেওয়া, নিয়োগ বাণিজ্যসহ গণনিয়োগের অভিযোগ তোলা হয়।
ওই দিন এসব বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে ভিসি সভা বাতিল ঘোষণা করেন। সে সভায় পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু উপস্থিত ছিলেন। সভা বাতিল হলে তিনিও সভা থেকে চলে এসেছিলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে শামসুল হক টুকু আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। সেখানে তিনি মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেন। তখন ভিসি রিজেন্ট বোর্ড সভার জন্য ২৪ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ ঘোষণা করলে সে সময়ের জন্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, ভিসি গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ক্যাম্পাসে আসেন। তার আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা তাৎক্ষণিকভাবে মিছিল বের করেন। শিক্ষকরাও পরদিন (২৪ ফেব্রুয়ারি) দফায় দফায় বৈঠক করে গণনিয়োগ বন্ধের দাবি জানান। ফলে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রিজেন্ট বোর্ডের সভা আর হয়নি। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা বৈঠক করে শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে উপাচার্যের কার্যালয় অবরুদ্ধ করার কর্মসূচি ঘোষণা দেন। অবশ্য এর আগেই শুক্রবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) উপাচার্য ক্যাম্পাস ছেড়ে ঢাকায় কাজে চলে যান।
পাবিপ্রবি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি আব্দুল্লাহ আল-মামুন ও সাধারণ সম্পাদক সোহাগ হোসেন জানান, ১৭ দফা দাবি-সংবলিত স্মারকলিপি দিয়ে তারা কর্মসূচি পালন করছেন। দাবি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই কর্মসূচি চলবে। তারা জানান, গত চার বছরে নানা আশ্বাস দিলেও ভিসি তা পালন না করায় কর্মকর্তারা এই কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন।
তবে রেজিস্ট্রার ড. বিজন ব্রহ্ম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সবকিছু নিয়ম মেনে হয়েছে। কর্মকর্তারা কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছেন। উপাচার্য দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
এ বিষয়ে জানতে পাবিপ্রবি উপাচার্য ড. রোস্তম আলীর মোবাইল ফোনে কল করলে অন্য একজন রিসিভ করে জানান, তিনি বাইরে আছেন।
আমিন ইসলাম জুয়েল/এমআরআর/এএসএম