জলবায়ু পরিবর্তনে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কয়েক হাজার তরমুজ চাষি। ঘনঘন বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অপরিপক্ব তরমুজ। ফলে বছরের পর বছর লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ধুলাস্বার, নীলগঞ্জ, লতাচাপলী, মিঠাগঞ্জসহ গোটা উপজেলায় কৃষকদের একটি বড় অংশ তরমুজ চাষ করেন। বালু-মাটির মিশ্রণে উর্বর ভূমি হওয়ায় বছরের পর বছর কৃষকরা এ অঞ্চলে তরমুজ চাষ করে আসছেন। সফলতার সঙ্গে চাষিরা তরমুজ চাষ করে আসলেও কয়েক বছর ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন তারা।
একাধিক তরমুজ চাষি জানান, অগ্রহায়ণ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হয় তরমুজ চাষের প্রাথমিক কাজ। পরে চারা গজানোর দুই মাসের মাথায় ফল আসতে শুরু করে। ফল আসার চার সপ্তাহের মধ্যে তরমুজ পরিপক্বতা পায়। এক সময় তরমুজের মৌসুম ফাল্গুন মাসে একবার বৃষ্টি হলেও তরমুজের ক্ষতি হতো না। কিন্তু এখন অতিরিক্ত বৃষ্টিই তরমুজের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চর-চাপলি এলাকার কৃষক আকবর হাওলাদার জাগো নিউজকে জানান, ২০ বছর ধরে তরমুজ চাষ করে আসছি। শুরুতে বেশ লাভবান হলেও গত ১০ বছর ধরে ক্ষতির সংখ্যা বেশি। এখন ঋতুর পরিস্থিতি বোঝা যায় না। হঠাৎ বৃষ্টি, হঠাৎ রোদ। তরমুজ লাগিয়েছি দুই মাসের মধ্যে ৪-৫ বার বৃষ্টি হয়েছে। গাছ এখনো ভালো আছে। আর একবার বৃষ্টি হলে বড় ধরনের ক্ষতি হয় যাবে।
ধুলাস্বার ইউনিয়নের চাষি ফিরদৌস জাগো নিউজকে জানান, ৩০ কৃষক কাছাকাছি প্রায় ১০০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। প্রতি একর জমিতে শেষ পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার বেশি খরচ হবে। বৃষ্টি আর না হলে প্রতি একরে লাখ টাকার বেশি তরমুজ বিক্রি করতে পারবো।
কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এআরএম সাইফুল্লাহ জাগো নিউজকে জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে কৃষি। বারবার বৃষ্টি হলে জমিতে আগাছা বাড়ে, গাছের গোড়ায় পচন ধরে এবং পাতায় পোকার আক্রমণ বেড়ে যায়। শিলাবৃষ্টিতে ফল ও গাছ দুটোই নষ্ট হয়। গত দুই মাসে কয়েকবার বৃষ্টি হয়েছে। এখন গাছে ফল আসছে। হঠাৎ বৃষ্টি হলে ফলগুলো নষ্ট হয়ে যাবে।
এবার উপজেলার এক হাজার ৯২৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। উপজেলার ৩৯ হাজার কৃষকের মধ্যে ৩-৪ হাজার কৃষক তরমুজ চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে।
আসাদুজ্জামান মিরাজ/আরেএইচ/এমএস