দিনাজপুরে মানসিক নির্যাতন, সিট বাতিলের হুমকি, ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন অভিযোগে হোস্টেল সুপার পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) বিকেলে কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর ছাত্রী নিবাস-১ এর হোস্টেল সুপার রওশন আলীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানান কলেজের শিক্ষার্থীরা। এর আগে তারা একত্রিত হয়ে হোস্টেল সুপার পরিবর্তনের দাবিতে অধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।
ছাত্রীদের ওপর মানসিক নির্যাতন, হোস্টেল সুপারের স্ত্রীর কর্তৃত্ব আরোপ, ছাত্রীদের চরিত্র নিয়ে সংশয় প্রকাশ, সিট বাতিলের হুমকি, ফি নেওয়ার পরও পরিচয়পত্র না দেওয়া, হোস্টেলে মুরগি পালনসহ ১৫টি অভিযোগ আনা হয়।
দীপা রায় নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আর এ হোস্টেল সুপারকে চাই না। উনি আমাদের ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেন এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। পরীক্ষার আগের রাতে এমনভাবে থ্রেড করেন যে আমরা ভালভাবে পড়তে পারি না।
শিক্ষার্থী ডলি রায় বলেন, স্যারের সঙ্গে কথা বলাই যায় না। এমনিতেই খারাপ আচরণ করে। এখানে যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা সেগুলো পাচ্ছি না।
শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, বড় আপুরা আসলে তাদের কাছ থেকে থাকার জন্য অতিরিক্ত টাকা আদায় করে। তাদের বিভিন্নভাবে অপমান করেন। হোস্টেল সুপারের স্ত্রী মুরগী পালন করেন। সে মুরগিগুলো আমাদের রুম, ডাইনিংসহ বিভিন্ন জায়গাগুলো নোংরা করে রাখে। আমরা এ সমস্যার সমাধান চাই।
দিনাজপুর সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সাজ্জাদ বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টা করেছি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ব্যাপারে সিনিয়র শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে হোস্টেলে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তবে ছাত্রীদের সব ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রী নিবাস-১ এর হোস্টেল সুপার রওশন আলী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেক ভাল। তারা কেন আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ দিল তা বোধগম্য নয়। আমাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা।
এমদাদুল হক মিলন/আরএইচ/এমএস