দেশজুড়ে

লিচুর রাজ্যে এবার মুকুল কম, উচ্চফলন নিয়ে শঙ্কা

সারাদেশে কমবেশি চাষ হলেও ‘লিচুর রাজ্য’ খ্যাত দিনাজপুরের লিচুর আলাদা কদর রয়েছে। তবে চলতি বছর লিচুর উচ্চফলন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এবার দিনাজপুরের লিচুবাগানের গাছগুলোতে মুকুলের সমারোহ কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

শত শত বাগানে লিচুগাছে মুকুলের পরিবর্তে নতুন পাতা (নতুন পাতা গজালে মুকুল আসে না) আসতে দেখা গেছে। এজন্য দেশের মানুষের কাছে ‘রসগোল্লা’ হিসেবে পরিচত রসালো লিচু উৎপাদন নিয়ে নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন লিচুচাষি ও বিশেষজ্ঞরা।

তবে কৃষি বিভাগ বলছে, এখনো সময় আছে লিচুর মুকুল আসার। এরই মধ্যে কিছু গাছে লিচুর মুকুল আসা শুরু হয়েছে।

লিচুচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর দিনাজপুরের লিচু দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সরবরাহ করা হয়। লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় প্রতিবছরই জেলাতে লিচুচাষ বাড়ছে।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এবার দিনাজপুর জেলায় ১ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে লিচুচাষ বেড়েছে। গতবছর জেলায় ৪ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে লিচুচাষ হয়। এবার তা বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৬১০ হেক্টর।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ খালেদুর রহমান জানান, দিনাজপুরের লিচু সুস্বাদু ও মিষ্টি হওয়ায় দেশব্যাপী এর চাহিদা রয়েছে।

এবার অসময়ে দফায় দফায় বৃষ্টিপাতের কারণে লিচুর মুকুল নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন উদ্ভিদবিদ ও মৌ গবেষক মোসাদ্দেক হোসেন।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘বৃষ্টিপাতের কারণে উদ্ভিদের শাখার অগ্রভাগে কার্বনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় নতুন পাতা বেশি দেখা যাচ্ছে। প্রতিটা বাগান নতুন পাতায় ছেয়ে গেছে। এবার বোম্বাই লিচুর উৎপাদন কমে যেতে পারে। অন্যান্যবার এ সময়ে অনেক বেশি মুকুলের সমারোহ দেখা যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমি প্রায় চারশ বাগানে ঘুরেছি। প্রায় বাগানে বোম্বাই লিচুগাছে নতুন পাতা দেখতে পেয়েছি। এখন পর্যন্ত ২০ শতাংশ বোম্বাই লিচুর গাছে মুকুল এসেছে। কাজেই ফল হ্রাসের আশঙ্কা রয়েছে।’

বিরল উপজেলার ৫ নম্বর ছাতইল ইউনিয়নের মনহারা গ্রামের লিচুচাষি আব্দুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবার লিচুর মুকুল অন্যান্যবারের তুলনা কম দেখা যাচ্ছে। তবে কৃষি কর্মকর্তারা আমাদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন।’

দিনাজপুরের লিচুর মধ্যে চায়না থ্রি, বেদেনা, বোম্বাই, মাদ্রাজি, কাঠালি উল্লেখয্যেগ্য। তবে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় বোম্বে লিচু।

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিনাজপুরের প্রতিটি বাড়ির বসতভিটায় বা আঙিনায় লিচুগাছে বাগানে নতুন পাতা আসতে শুরু করেছে।

ফুল আসা থেকে ফল আহরণ করা পর্যন্ত তিন থেকে চারমাস লিচু বাগানের সঙ্গে সম্পৃক্তদের কর্মব্যস্ত বেড়ে যায়। ফুল আসার ১৫ দিন আগে এবং ফুল আসার ১৫ দিন পরে সেচ দিতে হয়। এছাড়া মুকুল যাতে ঝরে না পড়ে সেজন্য গাছের গোড়ায় নিয়মিত পানি ও সার দিতে হয়। তবে এবার তার ব্যতিক্রম দেখা গেছে। প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় লিচু বাগানে সেচের প্রয়োজন হয়নি।

দিনাজপুরের যেসব স্থানে লিচুচাষ হয় তার মধ্যে সদর, বিরল, বোচাগঞ্জ, কাহারোল, চিরিরবন্দর, বীরগঞ্জ ও খানসামা উপজেলা বিখ্যাত।

মুকুল কম আসার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ খালেদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখন মুকুল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই কতটুকু মুকুল আসবে আর কী পরিমাণ লিচু উৎপাদন হবে তা বলার সময় আসেনি। এজন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। যদিও অন্যান্যবার এ সময় মুকুলের অনেক সমারোহ দেখা যায়।’ এমদাদুল হক মিলন/এসআর/এএসএম