গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভায় নিউ এশিয়া ক্লিনিকে সিজারের পর ভুল গ্রুপের রক্ত সঞ্চলনে রুনা আক্তার নামে (২৫) এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
সন্তান জন্মের আট দিন পর শুক্রবার (৪ মার্চ) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় রুনার চাচা রিটন মিয়া বাদী হয়ে তিন জনের নামে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এরা হলেন- হাসপাতালের পরিচালক ফজলুল হক, প্যাথলজিস্ট শরিফাতুন জান্নাত ও দালাল রিপন মিয়া। এদিকে মৃত্যুর ঘটনা জানাজানি হলে হাসপাতাল তালাবদ্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাইথল গ্রামের সুলতান মিয়া তার সন্তান সম্ভবা মেয়ে রুনাকে স্থানীয় এক দালাল রিপন মিয়ার সহযোগিতায় ২৩ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের শ্রীপুরের পৌর শহরের নিউ এশিয়া ক্লিনিকে এনে ভর্তি করান। পরে সে দিনই গৃহবধূর সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে এক সন্তানের জন্ম দেন। চিকিৎসকের পরামর্শ মতে প্রসূতি এ নারীকে বি-নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে খিচুনি তৈরি হয় গৃহবধূর।
অবস্থা বেগতিক দেখে কর্তৃপক্ষ দ্রুত তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে মারা যান ওই প্রসূতি।
রুনার চাচা রিটন মিয়া বলেন, হাসপাতালে ভর্তি করলে তারা জরুরিভাবে রোগীর জন্য ‘বি’ নেগেটিভ গ্রুপের রক্ষ জোগাড় করতে বলে। তারা প্রথমেই পরীক্ষা করে রোগীর রক্তের গ্রুপ ‘বি’ নেগেটিভ বলে জানান। এদিকে আমরা ‘বি’ নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত জোগাড় করলে তারা রোগীর দেহে পুশ করেন। রক্ত দেওয়ার পর থেকেই তার অবস্থা খারাপ হতে থাকে, খিচুনি শুরু হয়। পরে রোগীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করালে চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানান রুনার রক্তের গ্রুপ ছিল ‘বি’ পজিটিভ। মৃত্যুর কারণ হিসেবে তারা ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়াকেই দায়ী করেন।
রুনার মা সেলিনা খাতুন তার মেয়ের হত্যার বিচার চান। তার দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভুল পরীক্ষা নিরীক্ষার খেসারত দিতে হলো তার মেয়ের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। আর কারও যাতে এমন অপচিকিৎসার শিকার হতে না হয়, সেজন্য তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।
এদিকে তালাবদ্ধ করে গা ঢাকা দেওয়ায় বক্তব্যের জন্য হাসপাতালের কাউকে পাওয়া যায়নি। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূইয়া জাগো নিউজকে বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।
এ বিষয়ে গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. খায়রুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, এ ঘটনায় খোঁজ নিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।
এসজে/এমআরআর