দেশজুড়ে

মৎস্যচাষিকে হত্যার প্রতিবাদে ৬ বাড়িতে আগুন দিলো গ্রামবাসী

বগুড়ার কাহালুতে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত মৎস্যচাষি আলহাজ সেকেন্দার আলীর (৫৫) মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৫ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

এদিকে মৎস্যচাষির মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে হামলাকারী ও তার পরিবারের ছয়টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে গেলে তাদেরও বাধা দেওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে গ্রামবাসীকে সরিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ব্যবস্থা করে।

নিহত সেকেন্দার আলী (৫৫) কাহালু উপজেলার সদর ইউনিয়নের জয়তুল গ্রামের মৃত ময়েন উদ্দিনের ছেলে ও শাপলা মৎস্য খামারের সত্ত্বাধিকারী। এছাড়া তিনি গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কাহালু সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) আমিরুল ইসলাম জানান, গত ২ মার্চ তাদের গ্রামে এক ব্যক্তি মারা যান। স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা হওয়ার কথা। কিন্তু সদ্য মাটি ভরাট করায় মাঠটি অসমতল ছিল। গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে সেকেন্দার আলী সেখানে গিয়ে জানাজার আগেই মাঠটি সমতল করতে উদ্যোগ নেন। কাজ শেষে রাত সোয়া ৭টার দিকে যখন গ্রামবাসী জানাজায় দাঁড়াবে সেই মুহূর্তে হামলার ঘটনা ঘটে।

ইউপি সদস্য আরও জানান, ইউনিয়ন তাঁতি লীগের সভাপতি রাকিব হোসেনের নেতৃত্বে অন্তত ১০ জনের সশস্ত্র যুবক অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এ সময় তারা এলোপাতাড়ি সেকেন্দারকে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। গুরুতর আহত সেকেন্দারকে নিয়ে গ্রামবাসী প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায়। সেখান থেকে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকেও তাকে ঢাকায় রেফার করেন চিকিৎসকরা। প্রথমে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে এবং পরে হার্ট ফাউন্ডেশনে নেওয়া হলে শনিবার সকাল ১০টায় মারা যান সেকেন্দার।

ইউপি সদস্য বলেন, মৃত্যুর খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষিপ্ত গ্রামবাসী রাকিবের বাবা ফজলু ও চাচা নজরুল ইসলাম, অপর হামলাকারী জিহাদ, বুলু হাজী, সজীব ও মুনেরসহ ছয়জনের বাড়িতে এবং নজরুলের মুদির দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে নেন।

কাহালু ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা রুবেল রানা জাগো নিউজকে বলেন, খবর পেয়ে জয়তুল গ্রামে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি গেলে ক্ষিপ্ত জনতা আগুন নেভাতে বাধা দেয়। পরে পুলিশ পৌঁছে জনতাকে হটিয়ে দিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।

কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমবার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, পূর্ব বিরোধের জেরে সেকেন্দারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে গ্রামবাসী চারটি বাড়িতে আগুন দেয়। পরে তা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, সেকেন্দারের চিকিৎসার কারণে ঘটনার দিন থেকেই পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় অবস্থান করায় থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ হয়নি। তবে হামলার পর থেকেই জড়িতদের গ্রেফতার করতে পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে।

এদিকে ইউনিয়ন তাঁতি লীগের সভাপতি রাকিব হোসেন গা ঢাকা দেওয়ায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

এসজে/জিকেএস