যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা ডুবোচর, নাব্য সংকট, জেটিঘাট ও শেড স্বল্পতাসহ নানা জটিলতায় স্থবির হয়ে পড়েছে বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দর। এতে করে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় জ্বালানি তেল, সার ও অন্যান্য পণ্য পরিবহণে ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৮৩ সালে নির্মিত হয় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি নৌ-বন্দর। গত ৩৯ বছরে পাটুরিয়া-আরিচা থেকে বাঘাবাড়ি পর্যন্ত মূল নদীপথ একবারও ড্রেজিং করা হয়নি। ফলে শুষ্ক মৌসুমে এ পথে আসা সার ও জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য পণ্য বহনকারী জাহাজ যমুনা নদীর বিভিন্ন স্থানে জেগে ওঠা চড়ে আটকা পড়ে। আটকে থাকা জাহাজের এসব পণ্য ছোট ট্রলার দিয়ে বাঘাবাড়ি বন্দরে নিয়ে আসতে হয়। ফলে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
এছাড়াও জ্বালানি তেল-সারসহ অন্যান্য পণ্য খালাসের জন্য মাত্র চারটি জেটি নির্মাণ করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে দেশের অন্যান্য নৌ-বন্দর থেকে নদীপথে পণ্য অতি সহজে আনা যায়। কিন্তু পর্যাপ্ত জেটির অভাবে দিনের পর দিন পণ্য খালাসের অপেক্ষায় থাকতে হয় জাহাজগুলোকে। গুরুত্বপূর্ণ নদী বন্দরটিতে অতিরিক্ত জাহাজের চাপ সামাল দিতে ইজারাদাররা অস্থায়ী তিনটি জেটি নির্মাণ করে। অস্থায়ী এসব জেটি থেকে পণ্য খালাস করতে নানা দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় শ্রমিকদের।
এ বিষয়ে বন্দরের শ্রমিক আলমাস আলী, সুরুতজ্জামান, আলমাস শেখ, রবিউল ইসলাম জানান, প্রায় এক হাজার শ্রমিক এ বন্দরে কাজ করি। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের বিশ্রামাগার নেই। বিশ্রাম ও খাবার খাওয়ার জন্য একটি ঘরও নেই। জেটির সংখ্যা অনেক কম হলেও যে কয়েকটি আছে তাও নড়বড়ে।
বাঘাবাড়ী বন্দরের ব্যবসায়ী মামা-ভাগনে এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী এনায়েত উল্লাহ জানান, ডুবোচরে পণ্যবাহী জাহাজ আটকা পড়লে ছোট ট্রলার দিয়ে পণ্য খালাস করতে হয়। এতে আমাদের অতিরিক্ত অর্থ খরচ হয়। নদীপথ ড্রেজিং করে সব সমস্যা সমাধান হওয়া জরুরি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) বাঘাবাড়ী নৌ-বন্দরের পোর্ট কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি তেল ও সার সরবরাহের প্রধান মাধ্যম এ নদী বন্দরটি। বর্ষা মৌসুমে নদীপথে পণ্য অতি সহজে আনা যায়। শুষ্ক মৌসুমে নাব্য সংকটে বিপাকে পড়তে হয়। এ নৌপথ দ্রুত ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হবে।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, বন্দরটির অবকাঠামো ব্যবস্থা নাজুক। বাফার গুদামগুলো ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক ছোট। যে কারণে সারগুলো বাইরে রাখতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বন্দরে কোনো শেড নেই। শ্রমিকদের খাওয়ার পানির ব্যবস্থা করা হয়নি। প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করার পাশাপাশি সমস্যা সমাধানে বিআইডাব্লিউটিএকে চিঠি দিয়েছিলাম। কিন্তু চিঠির কার্যকারিতা দেখা যায়নি।
আরএইচ/জেআইএম