‘দেশে এখনো ২২ শতাংশ মানুষ আয়োডিনবিহীন লবণ খাচ্ছেন। এতে করে এসব মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। আর স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে শতভাগ আয়োডিনযুক্ত লবণ বাজারজাত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের পুষ্টি বিভাগ।
পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত লবণ সঠিকভাবে বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে লবণ সংক্রান্ত যথাযথ তথ্য ভান্ডার (ডাটা হাব) গড়ে তোলার গুরুত্ব অপরিসীম বলেও উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে কক্সবাজারের সী-গাল হোটেলের সম্মেলনকক্ষে ইউনিসেফ বাংলাদেশ আয়োজিত ‘দেশে লবণ উৎপাদন, উৎপাদনে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার এবং উৎপাদিত লবণের তথ্য সংরক্ষণ’ বিষয়ে একটি ওয়েব বেইজ ও মোবাইল অ্যাপ উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন বক্তারা।
বক্তারা বলেন, কক্সবাজার ও বাঁশখালীতে ৬৬ হাজার একর মাঠে ২৭ হাজার চাষি সারাদেশের চাহিদা পূরণের অতিরিক্ত লবণ উৎপাদন করছে। কিন্তু সব লবণ এখানেই আয়োডাইড করা হয় না। যার কারণে মাঠের উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে ‘র’ লবণ বিক্রি করে অনেক সময় খরচও পোষায় না। অন্যরা আয়োডাইড করে বিক্রি করা লবণের দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। সঠিক তথ্য না জানায় উৎপাদনস্থলে লবণ আয়োডাইড হচ্ছে না।
লবণ মিল মালিক সমিতির সংশ্লিষ্টদের মতে, এখান থেকেই আয়োডাইড করে বাজারজাত করা গেলে কক্সবাজার-বাশঁখালীর লবণ চাষি ও মিল মালিকরা লাভবান হবেন। সেটা নিশ্চিত করতেই ইউনিসেফ লবণ চাষি ও সংশ্লিষ্ট ওয়েব বেইজ ও মোবাইল অ্যাপস উদ্ভাবন করেছে। এ বেইজের মাধ্যমে সহযোগিতা পেলে লবণের মাঠপর্যায় উৎপাদনকারিরা লাভবান হবে।
অনুষ্ঠানে ইউনিসেফ বাংলাদেশের নিউট্রিশন কর্মকর্তা ডা. আইরিন আক্তার চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে লবণ মিলারদের জন্য ইউনিসেফ বাংলাদেশের এ ‘ইউএসআই বিডি সেন্ট্রাল এমআইএস’ ওয়েব বেইজ এবং মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে লবণ মিল মালিকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের হিসাব যেমনটি রাখতে পারবেন, তেমনি পণ্যের সবধরনের তথ্য ও প্রয়োজনীয় সনদের সংরক্ষণও করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়। শিশুর মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ হয় না। গর্ভকালীন সময়ে আয়োডিনযুক্ত লবণ আবশ্যক। এখনো দেশের ২২ শতাংশ মানুষ আয়োডিনবিহীন লবণ খাচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে আয়োডিন সম্পর্কে এখনো অনেকে অজ্ঞ। অনেক ক্ষেত্রে লবণে আয়োডিন আছে কিনা তাও পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। তাই বাজারজাতকরণের আগে লবণে শতভাগ আয়োডাইড নিশ্চিত করা নৈতিক দায়িত্ব। সুস্থ জাতি গঠনের স্বার্থে আয়োডিনযুক্ত লবণ বিপণনে গুরুত্বারোপ করা জরুরি।
কক্সবাজার লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি শামসুল আলম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী সাখাওয়াত হোসেন, অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কক্সবাজারের উপ-সচিব (ডিডিএলজি) শ্রাবন্তী রায় ও কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা উপস্থিতি ছিলেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে কক্সবাজারের ইসলামপুর লবণ শিল্প এলাকার ৫৮ লবণ মিলের মালিক, কর্মকর্তা, ইউনিসেফের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীল এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সায়ীদ আলমগীর/এমএএইচ/জেআইএম