দেশজুড়ে

রোগীর স্বজনকে কুপিয়ে জখম: জামিন নিতে এসে কারাগারে যুবলীগকর্মী

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে রোগীর স্বজনকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় করা মামলায় দেবাশীষ নয়ন নামে এক যুবলীগকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মামলার আরেক আসামি হাসপাতালের নার্স ইলা শিকদারের জামিন মঞ্জুর করা হয়।

সোমবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে জেলার ১ নম্বর আমলি আদালতের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুর রহমান এ আদেশ দেন। দেবাশীষ নয়ন (৩২) ফরিদপুর পৌর শহরের দক্ষিণ ঝিলটুলী মহল্লার বাসিন্দা। তিনি ফরিদপুর যুবলীগকর্মী ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির সহ-সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি একাধিক মামলার আসামি বলেও জানা গেছে।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার জাগো নিউজকে বলেন, তারা ২১ দিনের আগাম জামিন নেন। তাদের জামিন শেষ হওয়ার পর সোমবার (৪ এপ্রিল) ইলা ও দেবাশীষ ফরিদপুরে এক নম্বর আমলি আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানান। আদালত নার্স ইলার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন। তবে দেবাশিষের আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

দেবাশীষ নয়নের রিমান্ড আবেদন করা হবে বলেও জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০ ফেব্রুয়ারি স্ত্রী হীরাকে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে ভর্তি করেন ফাইন রহমান রাসেল। ২৩ ফেব্রুয়ারি হীরার রক্ত পরীক্ষা করাতে বলেন চিকিৎসক। কিন্তু রাতে হাসপাতালের ল্যাব বন্ধ। তাই বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করানোর জন্য নার্স ইলা শিকদারকে রোগীর রক্ত টেনে দিতে বলেন রাসেল। ওই নার্স ‘রক্ত টেনে দেওয়া তার দায়িত্ব নয়’ বলে জানান। একই সঙ্গে রাসেলের সঙ্গে ‘দুর্ব্যবহার’ করেন।

রাসেল ওই নার্সকে বলেন, ‘সরকারি বেতন খান, রক্ত নিয়ে দেবেন না কেন।’ এরপর ইলা শিকদার রাসেলের নামে নালিশ করেন হাসপাতালের নার্স সুপারভাইজার জহুরা বেগমের কাছে। একই সঙ্গে শহরের খাবাসপুর এলাকার যুবলীগ কর্মী দেবাশীষ নয়নকে ফোন করে ডেকে আনেন।

এদিকে রাসেল নার্স-সুপারভাইজারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বের হওয়ার পরই দেবাশীষ নয়ন ও তার সঙ্গে থাকা আরও ২-৩ জন রাসেলকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে চলে যান। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

২৩ ফেব্রুয়ারি রাতেই আহত রাসেলের স্ত্রী হীরা বেগম বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলার আসামি করা হয়- যুবলীগকর্মী দেবাশীষ নয়ন, হাসপাতালের নার্স ইলা সিকদার ও নার্সিং সুপারভাইজার জহুরা বেগমকে। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করা হয়।

এন কে বি নয়ন/এসজে/জেআইএম