ব্যাট হাতে মোহাম্মদ আশরাফুল জ্বলে উঠবেন আর তার দল জিতবে না- এমন ঘটনা সম্ভবত খুব কমই ঘটেছে। এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আশরাফুল। কিন্তু আজকের আগ পর্যন্ত ৬টি ম্যাচ খেলে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছিল আশরাফুলের দল।
অবশেষে ৭ম ম্যাচে এসে দ্বিতীয় জয় পেয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে আজ আশরাফুলের ব্যাটে চড়ে রূপগঞ্জ টাইগার্সকে ৩৬ রানে হারিয়েছে গোপিবাগের দলটি।
সাভারের বিকেএসপিতে নবাগত রুপগঞ্জ টাইগার্সের বিপক্ষে ব্যাট হাতে রীতিমত জ্বলে উঠলেন আশরাফুল। তার জ্বলে ওঠার পর যে ব্রাদার্স ইউনিয়ন এবারের লিগে দ্বিতীয় জয় পেতে যাচ্ছে, তা ছিল অনেকটাই নিশ্চিত।
কারণ, আশরাফুলের ব্যাটে ১৪১ রানের ওপর ভর করে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩০৯ রান সংগ্রহ করে ব্রাদার্স। এতবড় স্কোর গড়ার পর জয়টা প্রায় হাতের মুঠোয় চলে এসেছিল। বাকি কাজটা সেরেছেন ব্রাদার্সের বোলাররা। রুপগঞ্জ টাইগার্সকে ৪৭.৪ ওভারেই তারা অলআউট করে দিয়েছে ২৭৩ রানে।
ফজলে মাহমুদ রাব্বিও সেঞ্চুরি করেছিলেন। কিন্তু তার সেঞ্চুরি কোনো কাজেই আসেনি। ৩৬ রানে পরাজয় মেনেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে লিগের প্রথম ম্যাচে আবহানীকে চমকে দেয়া রুপগঞ্জ টাইগার্স।
৩১০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ১ রানে ওপেনার মিজানুর রহমানের উইকেট হারায় রূপগঞ্জ। এরপর জাকির হাসান এবং বাবা অপরাজিথের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে রূপগঞ্জ টাইগার্স। ৩৩ রান করেন জাকির এবং বাবা অপরাজিথ করেন ৩৪ রান।
এরপরই ফজলে মাহমুদ রাব্বি ১১০ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক মার্শাল আইয়ুবকে সঙ্গে নিয়ে। ৫৪ বলে ৫৮ রান করেন মার্শাল আইয়ুব। ১০০ বলে বরাবর ১০০ করে আউট হন ফজলে মাহমুদ। রূপগঞ্জের এরপরের ব্যাটাররা আর দাঁড়াতে পারেননি। যে কারণে আশরাফুলদের ৩০৯ রান তাড়া করা সম্ভব হয়নি তাদের।
আবু হায়দার রনি, চতুরঙ্গ ডি সিলভা, সাকলায়েন সজিব এবং মানিক খান নেন ২টি করে উইকেট। ২ ওভার বল করে ৯ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন মোহাম্মদ আশরাফুল।
এর আগে টস জিতে আশরাফুলদের প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান রূপগঞ্জের অধিনায়ক মার্শাল আউয়ুব। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেনের উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে ব্রাদার্স। এরপরই তাণ্ডব শুরু করেন আশরাফুল। সঙ্গে ছিলেন মাইশুকুর রহমান।
এ দু’জনের ব্যাটে গড়ে ওঠে ১৫০ রানের জুটি। ৯২ বলে ৬৮ রানের ইনিংস খেলে আউট হয়ে যান মাইশুকুর রহমান। মিনহাজুল আবেদিন আফ্রিদি খেলেন ৩৮ বলে ৩০ রানের ইনিংস। তার সঙ্গে ৮০ রানের জুটি গড়েন আশরাফুল।
তিনি আউট হয়ে গেলেন শ্রীলঙ্কান রিক্রুট চতুরঙ্গ ডি সিলভার সঙ্গে ৬৮ রানের জুটি গড়েন আশরাফুল। এই ৬৮ রানের মধ্যে ৫১ রানই ছিল চতুরঙ্গ ডি সিলভার। মাত্র ২৫ বলে এই ইনিংস খেলে আউট হন চতুরঙ্গ। ৪টি বাউন্ডারির সঙ্গে ৩টি ছক্কার মার মারেন তিনি।
১৩৯ বলে ১৪১ বলে অপরাজিত থেকে যান আশরাফুল। ১৬টি বাউন্ডারির মার মারেন তিনি। ১টি ছক্কাও আসে তার ব্যাট থেকে। ৬ রানে অপরাজিত থাকেন সোহাগ গাজী।
আইএইচএস/