দেশজুড়ে

আইনজীবীর প্রাচীরে গৃহবন্দি দুই পরিবার

রাজশাহীতে জোরপূর্বক দুটি বাড়ির প্রবেশপথে প্রাচীর নির্মাণ করে দুই পরিবারকে অবরুদ্ধের অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী আদালতের আইনজীবী সোমা খাতুনের বিরুদ্ধে।

বুধবার (৬ এপ্রিল) সকালে নগরীর চন্দ্রিমা থানাধীন ছোট বনগ্রাম মাঝিপুকুর নিউ কলোনি এলাকায় অভিযুক্ত আইনজীবী প্রাচীর তুলে দুই পরিবারকে অবরুদ্ধ করেন। এতে দুই পরিবারের মোট ১৩ জন মানুষ অবরুদ্ধ রয়েছেন।

ওই এলাকায় প্রায় ৩০ বছর আগে আড়াই কাঠা জমি কিনেছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মচারী মুরাদ শেখ। ৩০ বছর ধরে নির্বিঘ্নেই করেছেন বসবাস। তবে গত তিন বছর যাবত বিভিন্নভাবে হয়রানির মধ্যে রেখেছেন আইনজীবী সোমা খাতুন। প্রতিবাদ করলেই তিনি মামলা মোকাদ্দমার ভয় দেখান বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানতে চাইলে অবরুদ্ধ ভুক্তভোগীর স্ত্রী শেফালী খাতুন বলেন, আমার ও পাশের প্রতিবেশীর জমির দলিলের নকশা ও চৌহদ্দিতে যাতায়াতের জন্য রাস্তার উল্লেখ রয়েছে। যা প্রায় ৩০ বছর ধরে আমরা ব্যবহার করছি। কিন্তু গত দু’তিন বছর ধরে উকিল হওয়ার পর থেকেই সে (সোমা খাতুনে) উৎপাত শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, গতবারের কাউন্সিলর নির্বাচনে তার আপন ফুপাতো ভাই কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকে সে আমাদের হয়রানি করতে শুরু করে। আবার তার আরেক আপন ভাই যুবলীগের বড় নেতা হওয়ার কারণেও সে নানা প্রকারের হুমকি-ধামকি দেয়। এসব ঝামেলার কারণে থানায় একাধিকবার অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। সে কারো কথায় কোনো কর্ণপাত না করেই জোরপূর্বক প্রাচীর তুলে আমাদের অবরুদ্ধ করে দিয়েছেন। এখন আমরা গৃহবন্দি।

আরেক ভুক্তভোগী জান্নাতুন ফেরদৌসী জানান, তিন বছর আগে মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী নামের এক আইনজীবীর কাছ থেকে থেকে ৩ কাঠা জমি কেনা হয়। তারপর থেকেই অত্যাচার শুরু করেন সোমা। সোমার ক্রয়কৃত জমি রয়েছে মাত্র তিন কাঠা। অথচ তিনি তার ক্ষমতার জোরে দখল করেছেন আরও এক কাঠারও বেশি জমি। তার ওপর আমাদের ন্যায্য রাস্তা যেটা জমির দলিলে রয়েছে সেটি গায়ের জোরে দখল করে আমাদের চলার পথ অবরুদ্ধ করেছে।

তিনি বলেন, আমাদের ওই রাস্তায় একটি সরকারি টিউবওয়েল ও ড্রেনও ছিল। সেটি সংস্কারেও আইনজীবী সোমা বাধা দিয়েছে। আর তাই এনিয়ে আদালতে একটি মামলাও করেছি।

এ বিষয়ে আইনজীবী সোমার ভাই ও যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফ বাবু বলেন, আমার বোনের জায়গা সে ঘিরবে নাকি ঘিরবে না সেটা তার ব্যাপার। কিন্তু তাকে আমি কোনো প্রকারের সমর্থন দিইনি। উল্টো আমিই তাকে অনুরোধ করে এক বছর সময় দিয়েছিলাম সমস্য সমাধান করে নেওয়ার জন্য, কিন্তু তারা করেনি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন বলেন, ওই রাস্তা রাজশাহী সিটি করপোরেশনের। সে আমার বোন হোক আর যাই হোক তার ওই রাস্তা ঘেরার এখতিয়ার নেই। তারপরও এ ঘটনায় অনেকবার বসে মিমাংসা করার জন্য বলেছি। আমার বোন এসব কথা কর্ণপাত না করায় আমি ওই বিষয়ে আর মাথা ঘামাইনি।

প্রাচীর নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে আইনজীবী সোমা খাতুন বলেন, আমার দলিলের চৌহদ্দিতে যে জায়গার কথা উল্লেখ রয়েছে তার চেয়েও কম জায়গা নিয়ে আমি আমার সীমানা প্রাচীর তুলছি। বরং তারাই আমার জায়গা দখল করে বাড়ি তুলেছে। তাদের জমির কাগজই জাল-জালিয়াতি করা আছে, আমার নেই।

আইনজীবী সোমা আরও বলেন, আমি যদি আমার সীমানা প্রাচীর না ঘিরে দিই তাহলে আমার বাকি জায়গাও তারা দখলে নেবে। আমার কাজগপত্র সব সহি-শুদ্ধ রয়েছে। আর এনিয়ে আদালতে সিভিল মামলা চলমান রয়েছে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন আমি তাই মেনে নেবো।

দুই পরিবারকে অবরুদ্ধ করার বিষয়ে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরান আলী বলেন, ঘটনাটি জমি-জাতি সম্পর্কিত সিভিল আইনের বিষয়। আমাদের এখানে কিছুই করার নেই। তবুও আমি সেখানে ফোর্স পাঠিয়েছিলাম যাতে সেখানে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে। যার বিবাদী আইনজীবী সোমা খাতুন এবং বাদী প্রাচীরে ঘেরা ভুক্তভোগী পরিবার। এখন এ বিষয়টি আদালতই ফাইসালা করবে। এতে আমাদের কিছুই করার নেই।

ফয়সাল আহমেদ/এফএ/জিকেএস