দেশজুড়ে

ফরিদপুরে দুইপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ২৫

ফরিদপুরের সালথায় গ্রাম্য দলাদলি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১০টি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) দিনগত রাত ৭টা থেকে ও শুক্রবার (৮ এপ্রিল) সকাল ১০টা পর্যন্ত দফায় দফায় উপজেলার মোড়হাট-আগুলদিয়া-জয়ঝাপ গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রাম্য দলাদলি ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তার নিয়ে আগুলদিয়া গ্রামের শাজাহান খান এবং আনোয়ার খানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার রাতে মোড়হাট গ্রামের কসিম মৃধাকে মারধর করাকে কেন্দ্র করে নিজেদের গ্রাম্য দলের শক্তি জানান দিতে উভয় গ্রুপের কয়েকশ’ লোক দেশীয় অস্ত্র ঢাল, কাতরা, ভেলা, শরকি, টেঁটা ও ইটের টুকরো নিয়ে স্থানীয় মাঠের মধ্যে জড়ো হন। একপর্যায় তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

রাত থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলে এ সংঘর্ষ। পরে এ সংঘর্ষে আশপাশের তিনটি গ্রামের মানুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অংশ নেন। এখন পর্যন্ত পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনটি গ্রামে অধিকাংশ বাড়ি পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে।

সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের অন্তত ২৫ জন আহত হন। আহতদের ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মোছাম্মত শামিমা বেগম (৩৫), কসিম মৃধা (৩২), শাহাদাৎ মৃধাকে (২৯) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান লাবলু জাগো নিউজকে বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশের পাশাপাশি লোকজন নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। আগুলদিয়া গ্রামের শাজাহান খান ও আনোয়ার খানসহ কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।

এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোন্তাছির মারুফ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচ রাউন্ড শটগানের ফাঁকা গুলি ও একটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এলাকায় এখন শান্ত অবস্থা বিরাজ করছে।

ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা-সালথা সার্কেল) মো. সুমিনুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে সক্ষম হই। আপাতত পরিবেশ শান্ত রয়েছে। তবে সংঘর্ষ এড়াতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এন কে বি নয়ন/এসজে/এমএস