যশোরের চৌগাছায় দুই ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের পর তাদের পরিবারের আরও এক সদস্য সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতরা হলেন- উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের টেঙ্গুরপুর গ্রামের ইউনুছ আলী খান (৫৫) ও তার বড় ভাই আয়ুব আলী খান (৬০)। আর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় তাদের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে লিমন হোসেন খান (১৭)।
বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) রাতে ওই দুইভাইকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আর শুক্রবার সকালে মারা যায় তাদের ভাতিজা লিমন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বলেন, বিল্লাল, বিপুল ও মুকুল একই গ্রামের আয়ুব আলী খান ও ইউনুছ আলী খানদের ক্ষেতে কাজ করতেন। হঠাৎ বিপুল কাজে যেতে না চাওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে মুকুলের চায়ের দোকানে আয়ুব খানের সঙ্গে বিপুলের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বিপুল আইয়ুব খানকে ঘুষি মারেন। তখন আয়ুব খান বাড়িতে গিয়ে ইউনুছ ও আসাদুজ্জামানকে ডেকে আনেন। এসময় উভয়পক্ষের বাগবিতণ্ডায় মুকুল, বিপুল, বিল্লালসহ তাদের স্বজনরা আয়ুব খান, তার ভাই ইউনুছ খান এবং ছেলে আসাদুজ্জামান খান রনিকে চাপাতি ও হাঁসুয়া দিয়ে আঘাত করেন। এতে গুরুতর জখম হয়ে ইউনুছ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়া শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত পেয়ে মারাত্মক আহত আয়ুব খান ও আসাদুজ্জামান খানকে পুলিশ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন আয়ুবের মৃত্যু হয়।
শুক্রবার বিকেলে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সবুজ বলেন, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত বিপুল ও মুকুলসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। হত্যার কাজে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি চাপাতি ও একটি হাসুয়া উদ্ধার করেছে পুলিশ। জড়িত অন্যদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার নারায়ণপুর-বকসিপুর সড়কের কপোতাক্ষ সেতুতে ঘুরতে গিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে পড়ে যায় টেঙ্গুপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফা খানের ছেলে লিমন হোসেন খান। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেখানকার চিকিৎসক চিকিৎসা দিয়ে তাকে বাড়ি নেওয়ার জন্য বলেন। বাড়িতে নেওয়ার পর শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসক আবারও যশোর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে লিমনের মৃত্যু হয়। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আব্দুর রশিদ তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লিমনের বাবা হত্যাকাণ্ডের শিকার আয়ুব ও ইউনুছের চাচাতো ভাই।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই তিনজনকেই গ্রামের খানপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে জানান ইউপি সদস্য জাকির হোসেন।
মিলন রহমান/এমআরআর/এএসএম