ফরিদপুরের সালথায় গুজব ছড়িয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। এ সময় উভয়পক্ষের ১০-১৫টি বসতঘরও ভাঙচুর হয়েছে।
শনিবার (৯ এপ্রিল) রাত ৯টা থেকে উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খারদিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মধ্যরাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গ্রাম্য দলাদলি ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তার নিয়ে যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রফিক মোল্লার সঙ্গে যদুনন্দী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
এরই জের ধরে শনিবার (৯ এপ্রিল) রাতে রফিকের এক সমর্থক আমিনুর রহমানের ওপর অতর্কিত হামলা চালান আলমগীর মিয়ার সমর্থকরা। এতে গুরুতর জখম হন তিনি। তবে তার মৃত্যুর খবরের গুজব ছড়িয়ে পড়লে উভয়পক্ষের কয়েকশ লোকজন দেশীয় অস্ত্র ঢাল, কাতরা, ভেলা, শরকি, রামদা, টেঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া বসতবাড়ি ভাঙচুর ঘটে। আশপাশের প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র হাতে সংঘর্ষে অংশ নেন।
খবর পেয়ে সালথা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকিদের ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবুল খায়ের মুন্সি জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মিয়ারা দুই গ্রুপ। দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ চলেছে। অনেক লোক আহত হয়েছে বলে শুনেছি।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোন্তাছির মারুফ জাগো নিউজকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত সোয়া ১টার দিকে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
এন কে বি নয়ন/এসজে/এমএস