দেশজুড়ে

ফের সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেলের বিরুদ্ধে আবারো সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (২০ এপ্রিল) বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম শান্তনু চৌধুরীকে জানিয়েছেন চররমিজ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মুজাহিদুল ইসলাম দিদার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারি গাছ কাটা ও কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন যথাযথ সরবরাহ না করার অভিযোগে ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি চেয়ারম্যান সোহেলকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়। তখন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ শামছুল হকের সই করার প্রজ্ঞাপনে সোহেলকে অপসারণ করে চেয়ারম্যান পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছিল।

পুনর্বহালের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানিকালে তার উত্থাপিত বক্তব্য, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিবেদন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার মতামত ও উপজেলা বন কর্মকর্তার প্রতিবেদন পর্যালোচনায় সোহেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। এতে ৪ মে জনস্বার্থে তাকে রামগতি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল করে মন্ত্রণালয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল চররমিজ ইউনিয়নের চররমিজ গ্রামের বাসিন্দা। তার বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে ইউনিয়ন পরিষদের বেশকিছু গাছ রয়েছে। নিজের জমি দাবি করে মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) তিনি পাঁচ শ্রমিক নিয়ে তিনটি পবন ঝাউ গাছ কেটে নেন। বুধবার সকালেও তিনি দুটি গাছ কেটেছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান মুজাহিদুল ইসলাম দিদার বলেন, গাছগুলো সরকারি। সোহেল চেয়ারম্যান নিজের জমি দাবি করে গাছগুলো কেটে নিয়েছেন। তিনি কোনো নিষেধ শোনেন না। এ ঘটনায় আমি ইউএনওর কাছে অভিযোগ দিয়েছি।

উপজেলা চেয়ারম্যান শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল বলেন, জমি ও গাছ আমার, সরকারের নয়। আমার জমি থেকেই গাছ কেটেছি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম শান্তনু চৌধুরী বলেন, নিজের জমি থেকে গাছ কেটেছেন বলে সোহেল চেয়ারম্যান দাবি করেছেন। তহশিলদার পাঠিয়ে গাছ কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে। সার্ভেয়ারকে দিয়ে জমি পরিমাপ করা হবে। যদি সরকারি জমির গাছ হয়, তাহলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

কাজল কায়েস/এসজে/এএসএম