বাজারের নাম বউ বাজার হলেও এখানে বউ কেনাবেচা হয় না। মূলত বউরা কেনাকাটা করতে আসেন বলেই মাত্র কয়েক ঘণ্টার এই বাজারের নাম রাখা হয়েছে বউ বাজার। শুধু মেয়ে ক্রেতাদের কাছে মেয়েদের জন্য কম দামে বিভিন্ন ধরনের কাপড় বিক্রি করেন দোকানিরা। সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে বউ বাজারের বেচাকেনা।
দিনাজপুর শহরের মালদহপট্টি, বাসুনিয়াপট্টি, গরুহাটি ও চুড়িপট্টির চারমুখী রাস্তা নিয়ে শুক্রবার (২২ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে বউ বাজার। বাজারের শুরুটা হয়েছিল প্রায় একযুগ আগে মাত্র চারটি দোকান নিয়ে।
শুক্রবার বউ বাজারে কাপড় কিনতে আসা কলেজছাত্রী সুলতানা রাজিয়া বলেন, পড়ালেখা করতে আসা বেশিরভাগ মেয়েই শুক্রবারে এখানে কাপড় কিনতে আসি। এখানে কাপড় যেমন সস্তায় পাওয়া যায়, তেমনি কাপড়ের মানও ভালো। অনেক দোকান থাকার কারণে নিজের পছন্দমত যে কোনো কাপড় কিনতে পারি।
সুইহারী পিটিআই এলাকা থেকে বউ বাজারে এসেছিলেন নববধূ ইসমতারা বেগম। তিনি বলেন, বাজারে প্রথম এসেছি। কম দামে ভালো কাপড় পাওয়ায় নিজেরসহ পরিবারে জন্য কিনছি। ক্রেতারা সব মেয়ে মানুষ। তাই কেনাকাটা করতে কোনো অসুবিধা নেই।
বিরল থেকে আসা রোকেয়া মানু একমাত্র ছেলের জন্য কিনেছেন শার্ট, প্যান্ট, জুতা, গেঞ্জি। স্বামীর শ্বশুর শাশুড়ির জন্যও কাপড় কিনবেন। তিনি বলেন, ‘হারা ফি বছর বউ বাজার থাকি কাপড় কিনি। কম দামে পাইতো তাই তোনে প্রতিবার আসি।‘
বউ বাজার নামকরণের পেছনে কারণ জানতে চাইলে মালদহপট্টির স্থানীয় দোকানদার টুলু ইসলাম বলেন, ‘বউ বাজার নামটা এসেছে মূলত এখানে প্রথমদিকে নতুন বউরা কাপড় কিনতে আসতো বলে। এখনো প্রতি শুক্রবার নতুন বউরা কাপড় কিনতে আসেন। বর্তমানে বউ বাজার এমন পরিচিতি পেয়েছে যে, ভিড়ের জন্য রাস্তা দিয়ে চলাচল করা মুশকিল হয়ে পড়ে।’
বউ বাজারের অস্থায়ী দোকানদার মো. নাদিম ইসলাম বলেন, সপ্তাহে শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দোকান করেই চলে যাই। শুক্রবারে মালদহপট্টির দোকানগুলো বন্ধ থাকে। বন্ধের দিনে অন্য জায়গা থেকে এসে এখানে দোকান দেই। বেচাকেনাও আল্লাহর রহমতে ভালোই হয়।
তিনি আরও বলেন, ঈদের সময় বেচাকেনা অনেক বেড়ে যায়। গরীব পরিবারের পাশাপাশি অভিজাত এলাকার মা বোনেরাও এখানে কেনাকাটা করেন।
বউ বাজারের দোকানি মো. নজরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন শহরের সব দোকান বন্ধ থাকে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন বাড়িতে না বসে থেকে বাড়তি আয়ের লক্ষ্যে সব দোকানের কর্মচারীরা মিলে বউ বাজার দেওয়ার উদ্যোগ নেয় তিন বছর আগে। তখন থেকে একই নিয়মে বউ বাজার পরিচালনা হয়ে আসছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সের নারী ও মেয়েদের উপচেপড়া ভিড়। বউ বাজারে মূলত ওয়ান পিস, টু পিস, থ্রি-পিস, থান কাপড়, টুকরা কাপড়, পুরুষের শার্ট প্যান্ট, শিশুদের পোষাক, জুতা স্যান্ডেল প্রসাধনি পাওয়া যায়। বউ বাজারে দিন দিন বাড়ছে নারী দোকানদারের সংখ্যা। বর্তমানে ৫০ জনের মত নারী বউ বাজারে দোকান দিয়েছেন।
দোকানদার মিতু আক্তার বলেন, মূলত মেয়েদের কাপড় বিক্রি করি। শুক্রবার সকাল থেকেই চলে বিক্রি। ঈদ উপলক্ষে বিক্রি ভালো হলেও গত দুই বছর করোনার কারণে ঈদে কম বিক্রি হয়েছে বলে জানান তিনি।
পাঞ্জাবি বিক্রেতা আল আমিন জানান, ঈদ উপলক্ষে বউ বাজারে মূলত রমজানের দ্বিতীয় শুক্রবার থেকে বিক্রি শুরু হয়। প্রতি শুক্রবার ৪০ থেকে ৫০ পিস পাঞ্জাবি বিক্রি করি।
বউ বাজার দোকান কর্মচারী সমিতির দপ্তর সম্পাদক বিমল আগারওয়াল বলেন, প্রথমে বউ বাজার চারটি দোকান নিয়ে শুরু হয়। এখান ২৫০ এর বেশি দোকান বসে। এখানে দোকান করতে হলে প্রথম দিকে ২০ টাকা করে চাঁদা দিতে হলেও বর্তমানে কোনো চাঁদা দিতে হয় না। বড় বড় দোকান ও শপিংমলে বিক্রি হয় যে মানের পোশাক ঠিক সে মানের পোশাক ও কাপড় এখানে সস্তায় পাওয়া যায়।
এমদাদুল হক মিলন/এএইচ/এএসএম