বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে শালিস বৈঠকে গৃহবধূকে পেটানোর অভিযোগে স্থানীয় ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (২৪ এপ্রিল) সকালে তাকে আটক করা হয়। আটক তরিকুল উপজেলার নারচী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোদাগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা জিনের বাদশা নামে পরিচিত আব্দুল খালেক নারচী ইউনিয়নের গণকপাড়া গ্রামের কিটু প্রামানিকের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। মাঝে মধ্যে রাত যাপনও করতেন তিনি। সেই বাড়িতে বিবাহযোগ্য একটি মেয়ে আছে।
স্থানীয়দের ধারণা সেই মেয়ের সঙ্গে আব্দুল খালেকের কোনো অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এতে কিটুর স্ত্রী সহযোগিতা করেছেন। এ নিয়ে স্থানীয়রা শনিবার সকাল ১০টায় নারচী ইউনিয়নের গণকপাড়ার কৌডালা মালোপাড়া বিশু প্রামানিকের বাড়িতে শালিস বৈঠকের আয়োজন করেন। এতে ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলাম কিটুর স্ত্রীকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। ঘটনাটির ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ে।
আব্দুল খালেকের আগে বাড়ি ছিল ধাপগ্রামে, নদীভাঙনের পর তিন উত্তর হিন্দুকান্দি বাঁধের ধারে বসবাস শুরু করেন। এরপর বাড়িঘর বিক্রি করে এখন বর্তমানে নারচী ইউনিয়নের গোদাগাড়ি গ্রামে বসতবাড়ি করেছেন।
নারচী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলতাফ আলী বান্টু জাগো নিউজকে বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনৈতিক কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত। এলাকাবাসীর তোপের মুখে তরিকুল এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। তবে অন্য নারীর গায়ে হাত দেওয়া ঠিক হয়নি।
সারিয়াকান্দি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ফেসবুকে ভিডিওটি ভাইরাল হলে আমাদের নজরে আসে। এ ঘটনায় ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও তার মেয়েকে সারিয়াকান্দি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মামলা গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি চলছে।
সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এ বিষয়ে ১৪ জনকে আসামি করে মামলার প্রস্তুতি চলছে। মামলার পর তরিকুল মেম্বারকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বগুড়ার আদালতে পাঠানো হবে।
এসজে/জিকেএস