দেশজুড়ে

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত

বকেয়া বেতন ও কাজে যোগদানের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ভেতরের ও বাইরের দেশি শ্রমিকরা।

শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) খনির কয়লা সরবারাহ গেটের ভেতরে ও বাইরে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বুধবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টা থেকে খনির মূল ফটকে পরিবারসহ বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন শ্রমিকরা। এর আগে গত ২১ এপ্রিল তারা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে দুই দফা দাবি-সম্বলিত একটি স্মালকলিপি দেন। দাবি মেনে নিতে বুধবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন শ্রমিকরা। দাবি না মানায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

আন্দোলন চলাকালে খনির ভেতরে কাজ করা শ্রমিকদের সঙ্গে দেখা করতে কয়লা সরবরাহ গেটে আসেন শ্রমিকদের স্ত্রী ও সন্তানরা।

নাসরিন, শিরিনা ও শায়লা আক্তার নামের কয়েকজন শ্রমিকের স্ত্রী জানান, সামনে ঈদ। অথচ তাদের স্বামীরা ভেতরে কাজ করছেন। তাদের বাইরে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

তিনি জানান, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে খনিতে মোট এক হাজার ১৪৭ জন বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছিলেন। দুই বছর আগে করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে কর্মরত এক হাজার ১৪৭ জন বাংলাদেশি শ্রমিককে বাধ্যতামূলক ছুটি দেওয়া হয়। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৪০০ জন শ্রমিককে কাজ করার শর্তে ফেরত নেয়। বাকি ৭৪৭ জনকে কাজে যোগদানের সুযোগ না দিয়ে বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে। সামনে ঈদ। তারপরও ভেতরের শ্রমিকরদের খনির বাইরে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।

রবিউল ইসলাম আরও বলেন, ‘ছুটি দেওয়ার সময় প্রতি মাসে শ্রমিকদের সাড়ে চার হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ছিল। ওই টাকা দেওয়া শুরুও হয়েছিল। কিন্তু গত আট মাস ধরে তা আর দেওয়া হচ্ছে না। তবে কর্মরত শ্রমিকদের নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে।’

৮ মাস ধরে কয়লাখনির ভেতরে কাছ করছেন শ্রমিক জবিরুল ইসলাম। তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম বলেন, ‘আমার প্রতিবন্ধী মেয়ে তার বাবাকে দেখার জন্য কান্নাকাটি করছে। অসুস্থ হওয়ায় সে তার বাবাকে দেখতেও আসতে পারছে না। আমি তাদের বাড়িতে রেখে স্বামীকে দেখার জন্য এখানে এসেছি। এটাই কি আমাদের জীবন? স্বামীকে রেখে দুইটা মেয়েকে নিয়ে কীভাবে একা ঈদ পালন করবো?’

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুজ্জামান খান বলেন, ‘বর্তমানে খনির একটি ফেস (ধাপ) চালু রয়েছে যা শেষের পথে। তাই জনবল কম লাগছে। থাকার জায়গাও কম। আরও একটি ফেস চালু করার প্রস্তুতি চলছে। এতে চালু হতে মাসদুয়েক সময় লাগবে। ওই ফেসটি চালু হলেই বাইরের শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে কাজে নেওয়া হবে।

ভেতরের শ্রমিকদের আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা খনির বাইরে বের হয়ে বাড়ি থেকে কাজ করতে চান।’

এমদাদুল হক মিলন/এসআর/এমএস