করোনা ভাইরাসের কারণে দু’বছর পর ঈদ আনন্দে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা তিস্তা ব্যারাজ এলাকা। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তিস্তা ব্যারাজের দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। ঈদের প্রথম ও দ্বিতীয় দিনও তিস্তা ব্যারাজে বিনোদন পিপাসু মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্যণীয়।
বুধবার (০৪ মে) ঈদের দ্বিতীয় দিনে সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় দর্শনার্থীদে ভিড়। দর্শনার্থীরা দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন। ব্যারাজ এলাকায় জমে উঠেছে বিভিন্ন দোকান পাট।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদ উপলক্ষে তিস্তার বুকে ৪টি স্পিডবোট চলছে। দ্রুত বেগে এপাশ থেকে ওপাশে ছুটে চলছেন পর্যটকরা। স্পিডবোট ও পালতোলা নৌকায় মাত্র ৫০ টাকায় তিস্তার বুকে ভাসছেন দর্শনার্থীরা।
হৈ হুল্লোড়ে মেতে উঠছেন সবাই। বড় বড় ঢেউ এসে ধাক্কা দিচ্ছে তিস্তার কূলে। ছিটকে আসা জলরাশির আনন্দে মেতে উঠছে সবাই।
ঈদের উৎসবে রঙিন হয়ে উঠেছে ছোট-বড় সব বয়সী মানুষের মন। আনন্দের মাত্রা বাড়াতে ক্যামেরা ও মোবাইলে ছবি তুলে স্মৃতির ফ্রেমে বন্দি করছেন প্রিয় মুহূর্তগুলো।
জেলা ও উপজেলা শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের নামে লেখা ব্যানার সংবলিত গাড়িগুলোতে বিনোদনপ্রেমীদের মাইক ও সাউন বক্স বাজিয়ে নেচে গেয়ে হৈ হুল্লোড় ও আনন্দ করতে দেখা গেছে।
তিস্তা ব্যারাজজুড়ে বসেছে দোকানের হাট। নানা রকম পণ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে দোকানগুলো। বিভিন্ন খেলনা, বাঁশি, বেলুন, মাটির গাড়ি ও খাবারের দোকান। নদীর বুকে ভাসমান বিলুপ্ত আশির দশকের বেশ কিছু পাল তোলা নৌকা নজর কাড়ছে দর্শনার্থীদের।
ঘুরতে আসা কয়েকজন দর্শনার্থীর সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, করোনায় কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয় না। তাই ঈদ উপলক্ষে গ্রামে এসে পরিবার পরিজন নিয়ে তিস্তা ব্যারাজে ঘুরতে এসেছি।
তিস্তা ব্যারাজে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা আনিচুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ৬ বছর পর সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে দেশে এসে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি তিস্তা ব্যারাজে। আগের তুলনায় পরিবেশ অনেক সুন্দর।
গড্ডিমারী ইউনিয়নের সাবেক সদস্য আয়নাল হক জাগো নিউজকে বলেন, ঈদে তিস্তা ব্যারাজে প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটেছে। চলাচল করার মতো জায়গা নেই। মানুষ আর গাড়িতে ব্যারাজে যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
দোয়ানী পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত এসআই সিদ্দিক জাগো নিউজকে বলেন, ঈদ উপলক্ষে অন্য বছরের তুলনায় ব্যারাজ এলাকায় এবার প্রচুর মানুষের সমাগাম ঘটেছে। দুই কিলোমিটার জুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যানজট সামলাতে পুলিশ বাহিনী ও আনসার সদস্যরা কাজ করছেন।
রবিউল হাসান/এফএ/জেআইএম