কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে কালী নদীতে কচুরিপানার আধিক্যে নৌকা চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নদীতে এত পরিমাণ কচুরিপানা জমেছে যে নৌকা চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়েছে। কুলিয়ারচর বাজার অংশসহ ভৈরবের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান সেতুর পাড়ে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কচুরিপানার জট সৃষ্টি হয়েছে। এতে বাজার ঘাটে নৌকা ভেড়াতে পারছেন না মাঝিরা।
বৃহস্পতিবার (৫ মে) দুপুরে কুলিয়ারচরে কালী নদীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, নদীতে অতিরিক্ত কচুরিপানা জমেছে। কোথাও কোথাও কচুরিপানার সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা আটকে পুরু স্তরের সৃষ্টি হয়েছে।
জরুরি পণ্যসামগ্রী নিয়ে নৌকা ঘাটে ভেড়াতে বেগ পেতে হচ্ছে মাঝিদের। কচুরিপানার জট ছাড়িয়ে সামনে এগোনো যাচ্ছে না। মালবাহী নৌকা মাঝে মধ্যে নদীর মাঝে আটকে যাচ্ছে।
কুলিয়ারচরের বাজারের সঙ্গে হাওর অঞ্চলের অষ্টগ্রাম, মিটামইন, নিকলীসহ ভৈরব, সরাইল উপজেলার গ্রামগুলোর যোগাযোগ বেশি রয়েছে। কচুরিপানার সমস্যায় সেসব এলাকার যাত্রীসহ ব্যবসায়ীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর গ্রামের ব্যবসায়ী ললিত চন্দ্র দাস জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি একজন মুদি ব্যবসায়ী। সপ্তাহে ২-৩ দিন কুলিয়ারচর বাজারে মুদি মালামাল কিনতে আসতে হয়। কিন্তু কালী নদীতে কচুরিপানার জটের কারণে সাদেকপুর কাচারিঘাট থেকে নৌকা চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মাঝিরা। ফলে পাঁচটি গ্রামের যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা যাতায়াতে সমস্যায় পড়েছেন।’
রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা সারোয়ার মিয়া বলেন, ‘নদীপথে যোগাযোগ ভালো থাকায় কুলিয়ারচর বাজারের সঙ্গে আমাদের যাতায়াত বেশি। সেজন্য প্রয়োজনীয় কাজে স্বল্প সময় ও কম ভাড়ায় নৌকাযোগে যাতায়াত করি। তবে নদীতে কচুরিপানার জটের কারণে নৌকা চলাচল বন্ধ রয়েছে। এখন তিন গ্রাম পার হয়ে বেশি ভাড়ায় কুলিয়ারচরে যেতে হচ্ছে।’
অষ্টগ্রামের বাসিন্দা রহমান মিয়া জানান, হাওর এলাকায় প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহৃত হয় কুলিয়ারচর বাজার ঘাট। এই ঘাট থেকে কালী নদীর ওপর দিয়ে লঞ্চ, নৌকা, স্পিডবোটযোগে হাওর এলাকায় যাতায়াত করেন তারা। কিন্তু নদীতে এক মাস ধরে কচুরিপানার জট সৃষ্টি হওয়ায় যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। তাদের মতো হাওর অঞ্চলের যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।
অষ্টগ্রাম, মিঠামইন নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চের সুকানি ফরিদ মিয়া। তিনি জাগো নিউজকে জানান, সকাল সাড়ে ৭টায় তার লঞ্চটি কুলিয়ারচরের উদ্দেশ্যে অষ্টগ্রাম লঞ্চঘাট থেকে ছেড়ে আসে। কিন্তু কালী নদীতে বাজার ঘাটে কচুরিপানায় লঞ্চ ঠিকমতো চলতে পারছে না। ঘাটে ভিড়তে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে। ইঞ্জিন ও পাখা প্রায়ই বিকল হয়ে যায়।
কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবায়াৎ ফেরদৌসি জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড সংশ্লিষ্ট। চিঠির মাধ্যমে তাদের এটি জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কিশোরগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মতিউর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এসআর/জিকেএস